চোখ উঠাৱ কাৱণ | চোখ উঠাৱ প্রতিৱোধ ও প্রতিকাৱ | চোখ উঠার লক্ষণ


সম্প্রতি বাংলাদেশে চোখ উঠা কিংবা ভাইরাল কনজাংটিভাইটির'র রেওয়াজ শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে কয়েকটি জেলায় তথা চট্রগ্রামে অন্ঞ্চলে এই চোখ উঠা নিয়ে ব্যাপক সংক্রামণ দেখা দিয়েছে। চারপাশের মানুষ আক্রান্ত হয়েছে পড়ছে এই রোগে; যেন প্রতি ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে এই চোখ উঠা। এর ফলে মানুষ আগ্রহ নিয়ে ইন্টারনেটেও এই চোখ উঠা নিয়ে সার্চ করছে--এই রোগের উপসম বা প্রতিকার সম্পর্কে জানতে বা অনেকে সার্চ করছে-- চোখ ওঠা রোগের ঔষধ কি? চোখ ওঠা রোগ কেন হয়? চোখ ওঠায় করণীয় ই বা কি? চোখ ওঠা রোগ হলে কি কি করতে হবে? চোখ ওঠা কি ছোঁয়াচে রোগ? চোখ উঠার ড্রপের নাম কি? এছাড়াও অনেকে কৌতুহল নিয়ে জানার চেষ্টা করছে-- বাচ্চাদের চোখ উঠলে করণীয়! বাচ্চাদের চোখ উঠার ড্রপ, আচ্ছা চোখ উঠা কি করোনার লক্ষণ? চোখ লাল হওয়া ই বা কারণ কি? ভাইরাস এট্রার্ক করলে কি চোখে উঠে? ক্লোরামফেনিকল কি চোখ ওঠার (ড্রপ) ওষুধ? আবার অনেকে হতাশ হয়ে জানতে চাচ্ছে- চোখ ওঠার দোয়া কি?

আপনিও কি এ সকল ই ভাবছেন? বা আপনার আশেপাশে যদি কেউ চোখ উঠায় আক্রান্ত হয়ে থাকে বা আপনি নিজেও যদি এর ভুক্তভোগীর অন্তর্ভুক্ত হন; তাহলে আজকের ব্লগপোস্টটি আপনার জন্য। চোখ উঠা সম্পর্কে সকল কিছু জানতে পুরো ব্লগটি পড়ে নিন!!

সম্প্রতি চোখ উঠা (কনজাংটিবাটিস) বা  পিঙ্কআই রোগের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এতে অনেকেই শঙ্কিত হচ্ছেন। যেভাবে এই রোগ থেকে আপনি সর্তক থাকবেন এবং পরিবার, বন্ধু-বান্ধবী  সবাইকে এই বিষয়ে সচেতন করবেন। তাহলে ব্লগপোস্টটি পড়ুন এবং অন্যদের শেয়ার করে জানিয়েন দিন! 

চোখ উঠা কি? সুস্থতায় কতদিন?

চোখ ওঠা একটি স্পর্শকাতর রোগ। চোখ ওঠাকে ইংরেজি ভাষায় কনজাংটিভাইটিস বা রেড/পিংক আই বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ কনজাংটিভা নামক চোখের পর্দায় প্রদাহ হলে তাকে চোখ ওঠা রোগ বলা হয়। চোখ ওঠার মূল কারণ ভাইরাসজনিত এবং এটি একটি অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে রোগ। আ্ক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকলে এই রোগ হবার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি থাকে।

একটা বিষয় মনে রাখবেন-চোখ ওঠায় আক্রান্ত কারও চোখের দিকে তাকালে কারোর চোখ ওঠে না। ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত চোখ কিছুদিন পর ভালো হয়ে যায় ঠিকি, কিন্তু আশপাশে অনেককেই আক্রান্ত করে বা করতে পারে। তবে চোখ ওঠা রোগী মূলত সে তার নিজের জন্য সমস্যা নয়, বরং অন্যের জন্য সমস্যা। 

কারও চোখ ওঠা হয়তো তিন দিনে ভালো হয়ে যায়, কারোর আবার ৩ সপ্তাহ লাগতে পারে। সেটা নির্ভর করে কার কী ধরনের ভাইরাস আক্রান্ত করেছে এবং সেই রোগীর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কেমন তার ওপর।

কনজাঙ্কটিভাইটিস (চোখ ওঠা) রোগের প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গগুলি হল:

  • শুরুতে চোখে ময়লা পরার অনুভূতি
  • চোখ খচখচ করা
  • চোখে অস্বস্তিবোধ হওয়া।
  • চোখে ঝাপসা দেখতে পারে
  • চোখে দেখতে অসুবিধা হওয়া।
  • আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা।
  • চোখ দিয়ে পানি পড়া।
  • চোখে জ্বালা এবং চুলকানির ভাব।
  • চোখ গোলাপি বা লাল আভা আসা
  • চোখ ফোলা ও ব্যাথা অনুভব করা
  • চোখে অতিরিক্ত পুঁচ আসা।
  • চোখের ভিতরে যেন কিছু একটা রয়েছে বলে মনে হওয়া।
  • চোখের পাতা ফুলে ওঠা ও কনজাঙ্কটিভা ফুলে ওঠা।
  • সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় চোখের পাতায় চটচটে পদার্থ লেগে থাকা। 


বিশেষ লক্ষনীয়ঃ প্রথমে একটা চোখ আক্রান্ত হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরবর্তীতে দ্বিতীয় চোখটিও আক্রান্ত হয়।

এটি কিভাবে ছড়ায়? | কিভাবে চোখ উঠা রোগে আক্রান্ত হই?

চোখে ভাইরাস দিয়ে প্রদাহ হলে চোখের পানিতে ভাইরাস ভেসে বেড়ায়। যখন এই অশ্রু মুছতে যাই, তখনই এটি আমাদের হাতে এসে যায়। 

এরপর থেকেই সেই হাত দিয়েই আমরা যা কিছুই ছুঁই না কেন, সেখানে ভাইরাস চলে আসে। যেমন কারোর সঙ্গে করমর্দন, টিভি, এয়ারকন্ডিশনার রিমোট, ব্যবহৃত তোয়ালে, বিছানার চাদর, বালিশের কভার, এমনকি মুঠোফোন ইত্যাদিতে চলে আসতে পারে।

এটা একটা অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ,রোগীর সংস্পর্শে এলে বা ব্যবহারিত জিনিসপত্র, কাপড়, তাওয়াল ,টিস্যু, ইত্যাদি শেয়ার করলে, এমনকি চোখের কাছাকাছি এসে আক্রান্ত রোগীর চোখের দিকে সুস্থ ব্যক্তি তাকালেও এ রোগ হয়ে যেতে পারে। 

এ জন্যই আক্রান্ত ব্যক্তিকে এই সময়ে বাসায় থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়। তার ব্যবহৃত জিনিসপত্রও কিছুটা আলাদা রাখা ভালো। এটি হলে ভয় পাওয়ার একদমই কোন কারণ নেই তবে সচেতন থাকতে হবে যাতে কারো মাধ্যমে এটি না ছড়ায়।

অন্যদের দ্বারা সংক্রমিত হওয়া থেকে বাঁচার  উপায়

  • সংক্রমিত চোখ/চোখদুটি ছোঁয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • হাত ভালো করে ধুয়ে নিবেন। 
  • নিজের তোয়ালে ও প্রসাধনী দ্রব্য অন্য কাউকে ব্যবহার করতে না দেওয়া।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির চশমা অন্য কোন সুস্থ ব্যক্তি পরিধান  না করা।

চোখ ওঠা রোগে হয়ে গেলে কি করবেন?

কোন আতঙ্কের দরকার নেই,বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটা ভাইরাস জনিত রোগ এবং পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ নিরাময় হয়ে যায়।

  • অহেতুক  আক্রান্ত চোখ  ঘষা মজা করবেন না।
  • চোখকে বিশ্রাম দিবেন অর্থাৎ চোখের কাজ;যেমন পড়ালেখা, টিভি, মোবাইল ব্যবহার সীমিত করবেন।
  • নিজের এবং অন্যের চোখ ঝুঁকিমুক্ত রাখতে চোখে কালো সানগ্লাস ব্যবহার করবেন। 
  • বেশি ব্যথা হলে গরম কুসুম ভাব পানি ব্যবহার করা যেতে পারেন
  • এবং সাথে প্যারাসিটামল বা নাপা জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারেন
  • এছাড়া চুলকালে-- আন্টি হিস্টামিন বা এলাট্টল দিন একবারে করে খাওয়া যেতে পারে।

কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে?

চোখ লাল হয়ে চোখ দিয়ে আঠালো পূজ বের হলে, সকালবেলা চোখ খুলতে না পারা, প্রচন্ড মাথা ব্যাথা সাথে জ্বর হলে, চোখে ঝাপসা দেখা গেলে, চোখ দিয়ে অনর্গল পানি বা পুজ বেৱ হতে থাকলে বা এক সপ্তার মধ্যে রোগীৱ কোন উন্নতি না হলে ডাক্তাৱেৱ সাজেশন গ্রহণ কৱুন।

বিঃদ্রঃ সর্বোপরি চোখের ব্যাপারে কোন রিস্ক না নিয়ে; রোগের লক্ষণ দেখা দিলে চক্ষু বিষয়ক ডাক্তাৱেৱ চিকিৎসা নেয়া উচিত।

শেষকথাঃ চোখ উঠাৱ কাৱণ | চোখ উঠাৱ প্রতিৱোধ ও প্রতিকাৱ | HumanPhilo

চোখ উঠা বা CONJUNCTIVITIS। যা বর্তমানে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ যা ভাইরাস জনিত। একজন থেকে আরেকজনের কাছে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সঠিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে এবং কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে সাধারণত সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে এটি নিজ থেকে ভালো হয়ে যায়। 

Comments