বিঃদ্রঃ 'ধর্ম ব্যবসায়ী কারা? ধর্মের নামে ব্যবসা' ব্লগটি কাউকে ছোট বা হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে নয়। পুরো ব্লগটি না পড়ে অসুস্থ হবেন না।
হিউমান ফিলো ব্লগের এর আজকের ব্লগপোস্ট- ধর্ম ব্যবসায়ী কারা? ধর্মের নামে ব্যবসা, ধর্মের নামে কারা ব্যবসা চালায়? শুরুতেই বলেছি আজকের এ ব্লগপোস্টটি কাউকে হেও বা ছোট প্রতিবন্ধ করার উদ্দেশ্য নয়। গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে জানার চেষ্টা করব- ধর্মীয় ব্যবসায়ী কারা? ধর্মের নামে কারা রাজনীতি করে? ধর্মের নামে কারা ব্যবসা করে? কারা ধর্মের নামে ব্যবসা চালায়? বা ধর্মকে চালিয়ে কারা স্বার্থ হাসিল করে? তো চলুন জেনে নেয়া যাক, আসলে ধর্মের নামে কারা ব্যবসা চালায়? কারা ই বা ধর্ম ব্যাপারী?
আমাদের এই ব্লগপোস্টের আলোচনার মূল বিষয়-
কারা ধর্মের অনুসারী আর কারা ধর্মের ব্যবসায়ী? জানতে হলে- 'ধর্ম ব্যবসায়ী কারা? ধর্মের নামে ব্যবসাʼ আজকের এই ব্লগপোষ্টে ধর্মব্যবসা শব্দটির মর্মার্থ তুলে ধরার চেষ্টা করব। ব্লগটি সম্পূর্ণ পড়ুন--
সূচিপত্রঃ ধর্ম ব্যবসায়ী কারা? ধর্মের নামে ব্যবসা
ধর্ম ব্যবসায়ী কারা?
- ধর্ম কি? ধর্ম বলতে কি বোঝায়?
- ধর্মব্যবসা কি? ধর্মব্যবসা বলতে কি বুঝায়?
- ধর্ম ব্যবসা চালানোর এক মহাকৌশল
- মানুষকে সত্য থেকে দূরে রাখা তথাকথিত আলেম
- আবেগ নিয়ে খেলার আরেক নাম ধর্মব্যবসা
- নবী কি ধর্মের নামে ব্যবসা করতেন?
- নামাযের নামে ধর্ম ব্যবসা
- আলেমরা সবাই কি ধর্ম ব্যবসায়ী?
- সবাই ধর্ম ব্যবসায়ী নয়! কারা ধর্ম ব্যাপারী?
- আলেমরা শুধুই কি ধর্মব্যবসায়ী?
- প্রকৃত আলেম ওলামা কারা?
- প্রকৃত ধর্ম ব্যবসায়ী কারা?
- মাজার কেন্দ্রিক ধর্মব্যবসা
- ধর্ম অব্যবহারকারী রাজনীতিবিদ
- রাজনীতিবীদের এক অপকৌশল
- কোরবানীর নামে ধর্ম ব্যাপারী
- বাংলাদেশের আরেক মুখোশধারী ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী?
- শেষকথাঃ ধর্মব্যবসার নির্মূলে আমাদের ভূমিকা
ধর্ম কি? ধর্ম বলতে কি বোঝায়?
প্রিয় ভিজিটর ধর্ম ব্যবসায়ী কারা? ধর্মের নামে কারা ব্যবসা চালায়? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আগে জানতে হবে- ধর্ম আসলে কি?
আমি আমার জীবন দর্শনে ধর্ম সম্পর্কে যতটুকু বুঝেছি এবং জেনেছি- ধর্ম হচ্ছে মানবতা, মানবতার কল্যাণের জন্য এসেছে ধর্ম। মহাবিশ্বের সকল সৃষ্টির কল্যাণের জন্য এসেছে ধর্ম। আল্লাহ মানুষকে শান্তি ন্যায় ও প্রগতির মধ্যে বাস করার জন্য দ্বীন পাঠিয়েছেন। যাইহোক, ধর্মের আবির্ভাব হয়েছে মানুষের কল্যাণে। ধর্ম এসেছে আত্মশুদ্ধির জন্য। এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন হয়তো জেগে উঠেছে, ধর্ম যদি হয় মানবতার, ধর্ম যদি মানুষের কল্যাণের। ধর্ম যদি হয় মানবতার সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ার মতন। ধর্ম যদি হয় আত্মশুদ্ধির। তাহলে এখানে ধর্মের সাথে ব্যবসা শব্দটি কেন আসে? ধর্ম ব্যবসা কি?
ধর্মব্যবসা কি? ধর্মব্যবসা বলতে কি বুঝায়?
ধর্মব্যবসা কি? ধর্মব্যবসা বলতে কি বুঝায়? আল্লাহ মানুষকে শান্তি ন্যায় ও প্রগতির মধ্যে বাস করার জন্য দ্বীন পাঠিয়েছেন, সেটাকে যদি কোন ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য কাজে ব্যবহার করে তখন তাকে ধর্ম ব্যবসায়ী বলে। একেবারে সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা উদ্দেশ্য হাসিল জন্য ধর্মকে ব্যবহার করে, যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে অন্যায় ভাবে পয়সা উপার্জন করে এবং ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে নিজের ব্যক্তিত্বকে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যায় তারাই হচ্ছে ধর্ম ব্যবসায়ী।
আরো পড়ুন--
আমি কে? - অস্তিত্বের সন্ধানে যাত্রা
আমি কে? - অস্তিত্বের সন্ধানে যাত্রা
ধর্ম ব্যবসা চালানোর এক মহাকৌশল, কিভাবে ধর্ম ব্যবসা করা হয়?
ধর্ম বিশ্বাস ধর্ম চেতনা মানুষের এক মহাশক্তি। প্রতিটি শক্তিরই সুফল কুফল নির্ভর করে তার ব্যবহারের উপর। যারা ধর্মকে নিজের আয়ত্তে নিয়েছে তারা সর্বপ্রথম যে ক্ষতিকর কাজটি করছে- তা হলো তারা মানুষের চিন্তার জগতকে তালা মেরে দিয়েছে। এই কারনে যে- ধর্মের কোন বিষয়ে প্রশ্ন তুলে যাবে না। ধর্মের কোন নিয়ম কানুন নির্দেশের ওপর কোন যুক্তি চলবে না। মানুষ শ্রেষ্ঠ হয়েছে মস্তিকের গুনে। আর এই ধর্মজীবীরা মানুষের মস্তিষ্কে তালা মেরে দিয়ে মানুষকে ধর্মবোধহীন বানিয়ে দিয়েছেন। আর এভাবেই মুসলিমরা জাতি এখন বিশ্বব্যাপী পশ্চাত্যের মত পিছিয়ে আছে। কোনটা ভালো কোনটা মন্দ সেটা বোঝার ক্ষমতা অনেকেরই লুপ্ত হয়ে গিয়েছে। এদের কারণে দিন দিন ধর্ম অনেকটাই বিকৃতির কাছে চলে এসেছে।
মানুষকে সত্য থেকে দূরে রাখা- তথাকথিত আলেম
সাধারণ মানুষ ধর্ম সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান রাখেন না। অন্যায় পূর্ণ সমাজে অশান্তির দাবানলে দগ্ধ হয়ে হয়ে তারা যখন ইহজাগতিক ও পরজাগতিক মুক্তির আশায় ধর্মের দিকে ফিরে আসেন। তখন তারা ধর্মজীবী শ্রেণীর শরণাপন্ন হন, যারা ধর্মকে স্বার্থ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ধর্মকে পণ্য বানিয়ে ব্যবসা করছে। ধর্ম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। ধর্মকে ক্ষমতা আহরণের সিঁড়ি বানিয়ে ধর্মকে প্রতিনিয়ত মারিয়ে যাচ্ছে। আর সেই শ্রেণিটি নিজেদের স্বার্থে ধর্মের মনগড়া ব্যাখা প্রদান করে, ধর্মপ্রাণ মানুষকে প্রতিনিয়ত বিপদগামী করছেন, প্রতারিত করছেন। তারা যেটাকে ইসলাম বলে বলে প্রচারিত করেন সেটাকেই মানুষ আল্লাহর রাসূলের শীরকথা বলে মনে করেন। কেবল স্বার্থের জন্য বহু গুরুত্বহীন বিষয়কে ইসলামের অপরিহার্য বিষয় বানিয়ে দেন। আবার ইসলামের বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে একেবারে বাদ দিয়ে দেন। তাদের প্রতি অন্ধবিশ্বাস থাকায় জনগণ প্রতারিত হয়। তারা বুঝতে পারে না আলেমরা তাদের সামনে যে ব্যাখ্যা তুলে ধরছে সেটা একান্ত তাদের মনগড়া।
পড়া দরকার--
কুরআনের উদ্দেশ্য কি? কুরআন শিক্ষার দর্শন কি?
কুরআনের উদ্দেশ্য কি? কুরআন শিক্ষার দর্শন কি?
সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে খেলার আরেক নাম ধর্মব্যবসা
যেমন ধরুন- ধর্ম কিন্তু মানুষের একটি ইমোশনাল ব্যাপার। রাজনীতিবিদ রাজনীতি করেন ক্ষমতার করার জন্য। আর এই ক্ষমতা কে ভোগ করেন ধর্ম দোহাই দিয়ে। ধর্মকে কাজে লাগিয়ে মানুষের মনে জায়গা দখল করে নেন এবং এবং নিজ স্বার্থ হাসিল করেন। ইমাম সাহেব ইমামতি করেন কিতাব কে বিক্রি করার মাধ্যমে। সালাত যদি প্রভুর জন্য হয় তাহলে সালাত পড়ানোর জন্য কেন ইমামকে টাকা নিতে হবে? মৌলবীরা ওয়াজ করেন নিজের পকেট গরম করার জন্য। ওয়াজ ব্যবসা কত যে অর্থবহুল হয়ে উঠেছে তা আপনাদের অজানা নয়। ধর্মের কথা বলে, কিতাবের কথা বলে, আল্লাহর কথা বলে টাকা নেওয়া কতটুকু হালাল, কতটুকু জায়েজ বা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? উনারা কথায় কথায় বলে থাকেন- ওনারা নাকি ধর্মের দাওয়াত দিচ্ছেন। তাই যদি হয় তাহলে উনারা ধর্মের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছাতে কেন টাকা হাতিয়ে নেয়? আবার উনারা বলে থাকেন উনারা নাকি নবীর ওয়ারিশ!
নবী কি ধর্মের নামে ব্যবসা করতেন?
আপনাদের কাছে একটি প্রশ্ন- নবী কি ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে কোন স্বার্থ খুঁজেছেন? কখনোই না। নবী যদি স্বার্থের দ্বীন প্রচার করতেন। তাহলে কেউ তাঁকে অনুসরণ করত না। আল্লাহ বলেন-
❝তোমরা তাদের অনুসরণ করো যারা তোমাদের কাছ থেকে কোন বিনিময় আশা রাখে না❞
— (সুরা ইয়াসিন)
এখন আসেন আসল কথায়, তাহলে সেই নামিদামি হুজুর মৌলবীরা যারা টাকার বিনিময়ে নামাজ পড়ায়। টাকার বিনিময়ে ওয়াজ করেন। তারা কিভাবে নবীর ওয়ারিশ? কিভাবে তারা দ্বীন প্রচার করেন? বরং পবিত্র কুরআনের সূত্র অনুযায়ী তারাই ধর্ম ব্যবসায়ী। আল্লাহ এমন লেবাসধারী মৌলবীদের অনুসরণ করাকে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তাদেরই অনুসরণ করতে বলেছেন যারা ধর্মের বিনিময়ে কোন রকমের স্বার্থ কামনা করেনা।
এটি পড়ুন--
নবী মুহাম্মদ সাঃ নুর নাকি মাটির তৈরি?
নবী মুহাম্মদ সাঃ নুর নাকি মাটির তৈরি?
নামায পড়ানো আলেমদের পেশা নাকি ইবাদত (দায়িত্ব), নামাযের নামে ধর্ম ব্যবসা
অনেকে হয়তো বলতে পারেন হুজুরদের কি স্ত্রী-সন্তান পরিবার বা নিজের পেট নেই? কিভাবে তারা চলবে? প্রশ্নটা একটু কঠিন মনে হলেও উত্তর খুব সোজা। আমি এবং আপনি যদি কাজ করি এবং সেই সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারি। তাহলে ইমাম কেন কাজ করতে পারে না! একজন কৃষক সারাদিন অন্যের জমিতে কাজ করেন অথচ নামাজ পড়েন। রিক্সা চালক রিক্সা চালায় কিন্তু নামাজ পড়তে কোন অসুবিধা হয় না। দোকানদার ব্যবসা করেন নামাজও পড়েন চাকরিজীবী চাকরি করেন নামাজ ছাড়েন না। দিনমজুর, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এরা কাজের ফাঁকে সালাত কায়েম করেন এমনকি দ্বীনের দাওয়াত দেন। তাহলে ইমাম কি ইমামতিকেই পেশা হিসেবে নিয়েছেন! ইমাম কি কাজের ফাঁকে ইমামতি করতে পারেন না? ইমামতি কোন পেশা নয় বরং দায়িত্ব।
আলেমরা সবাই কি ধর্ম ব্যবসায়ী?
আলেমদের সবাই ধর্ম ব্যবসায়ী নহে। গণহারে আলেমদের প্রতি আঙ্গুল তোলে কথা বলাটা এখন একটা ট্যান্ডেন্সি হয়ে গেছে। অনেকেই আলেমদের কঠোর সমালোচনা করে বলছে-- "শত বছর ধরে ধর্ম ব্যবসায়ী আলেম সমাজ বিভিন্ন অজুহাতে কুরআন থেকে আমাদেরকে দুরে সরিয়ে রেখেছেন", যা একটি পক্ষপাতদুষ্ট মন্তব্য। এরফলে আলেমদের সাথে সাধারণ মানুষ এবং বুদ্ধিজীবি খ্যাত বুদ্ধি বিক্রেতাদের দূরত্ব বাড়বে, যা কাম্য নয়। অথচ গণহারে সব আলেমের জন্য কথাটি প্রযোজ্য নয়!
সবাই ধর্ম ব্যবসায়ী নয়! কারা ধর্ম ব্যাপারী?
আলেম সমাজ যদি কুরআন থেকে আমাদেরকে দূরে সরিয়েই রাখতেন, তবে আমাদের কাছে এই কুরআন পৌঁছালো কারা? বুদ্ধিজীবি নামক বুদ্ধি বিক্রেতা আর বুদ্ধি ব্যবসায়ীরা? যারা যুগে যুগে কুরআন, সুন্নাহ, শরিয়ত, মসজিদ, আযান, নামাজ, রোজা, হজ্জ আর যাকাতের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে এসেছে, সেই দুর্জন বিদ্বানেরা? যারা নারী-পুরুষের সমতার শ্লোগানের আড়ালে নারীদেরকে শুধু ভোগের পণ্য বানিয়ে রাখতে চাচ্ছে সেই হিপোক্রিট পন্ডিতেরা?
আলেমরা শুধুই কি ধর্মব্যবসায়ী?
আলেম ওলামারা কোনো অবস্থাতেই ধর্ম ব্যবসায়ী নন! এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমান কেউ ধর্ম ব্যবসায়ী নন। সাধারণ মুসলমানরা ধর্ম পালনকারী। আর আলেম ওলামারা শুধু ধর্ম পালনকারী নন, বরং তারা ধর্ম প্রচারকারীও। প্রকৃত আলেমরা ধর্ম পালন করেন এবং ধর্ম প্রচার করেন। তাহলে প্রকৃত আলেম ওলামা কারা?
জানতে পড়ুন--
যৌতুক ও কাপুরুষতা | ভালোবাসা ও দেনমোহর
যৌতুক ও কাপুরুষতা | ভালোবাসা ও দেনমোহর
প্রকৃত আলেম ওলামা কারা?
যারা আল্লার পথে মানুষকে আহ্বান করেন, জাহান্নামের পথ থেকে মানুষকে বারণ করে সরল-সত্য পথের সন্ধান দেখান এবং সততা আদর্শের প্রতি মানুষকে আহ্বান করেন। ভাতৃত্বের প্রতি, সাম্যের প্রতি মানুষকে আহ্বান করেন এবং দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, যারা সুদ, ঘুষ, জুয়া, মদ ইত্যাদি ইত্যাদি হারাম কাজ এবং গর্হিত অপকর্মের বিরুদ্ধে যারা জোরালো কণ্ঠে কথা বলেন, আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বান করেন তারাই হলেন প্রকৃত আলেম ওলামা কেরাম। তারা হলেন নবীর ওয়ারিস। তারা মানুষদেরকে আল্লাহর পথে তোমরা আহ্বান করেন কুরআনের সুন্দর বায়ানের মাধ্যমে এবং খেদমতের মাধ্যমে। পাশাপাশি নিজেরা (আলেমরা) নিজের জীবনে ধর্মকে পালন করেন এবং সাধারণ জনগণকে আল্লাহর আদেশ নিষেধ জানিয়ে দেন। প্রকৃত আলেমগণ নিজেরা হেদায়েতের ওপরে অবিচল থেকে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করেন। এবং তারা কোন স্বার্থের আশা করেনা। ধর্মকে তারা জাগতিক তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করেন না। তারা প্রতিদান চান পরজাগতিক জীবনে। সুতরাং গণহারে সব ওলামায়ে কেরাম ধর্ম ব্যবসায়ী নন! তাহলে প্রকৃত অর্থে ধর্ম ব্যবসায়ী কারা?
প্রকৃত ধর্ম ব্যবসায়ী কারা?
পক্ষান্তরে নামধারী আলেমরা যারা ধর্মের নাম বিক্রি করে করে মানুষের ধর্মীয় চেতনা এবং ধর্মীয় অনুভূতির দুর্বলতার ফাঁকে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা করে তারাই হলো প্রকৃত ধর্ম ব্যবসায়ী।
স্রোতের ভাঙ্গনের মত বিবর্তন, মাজার কেন্দ্রিক ধর্মব্যবসা
তরিকা ও পীরপন্থী কিছু আলেম, আর কিছু কাট-মোল্লার কথা বাদ দিলে এমন অনেক আলেম রয়েছেন যারা ইসলাম ও কুরআনের দিকে সারাক্ষণ মানুষকে উৎসাহিত করে এসেছেন এবং করছেন। মাইনুদ্দিন রহঃ, জালাল উদ্দিন কুনিয়াতি রহঃ, ইকরাম আলী রহঃ, বসুনিয়া রহঃ, বায়েজিদ রহঃ, দানেশ রহঃ, শাহজালাল, শাহপরান- এদের মত বহু আলেম ভারত ও বাংলার জমিনে জায়নামাজ ও কুরআন হাতে নিয়ে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু আমরা তাদের এনে দেয়া কুরআনের দাওয়াতকে দূরে ঠেলে দিয়ে তাদের রওজাগুলোকে মাজার নামক ব্যবসাকেন্দ্রে পরিণত করেছি ব্যবসায়ীক কায়েমী স্বার্থে। বাংলার মাটি গড়ে উঠেছে শিরকের ঘাটি।
আরো পড়ুন--
সত্যের দর্শন - কুরআনের আলোকে সত্যের দর্শন
সত্যের দর্শন - কুরআনের আলোকে সত্যের দর্শন
ধর্মের নামে রাজনীতি, ধর্ম অব্যবহারকারী রাজনীতিবিদ- ইসলামের বড় বাধাদানকারী কারা?
এরপর আসেন রাজনীতিবিদ নামক সমাজ শোষকদের কথায়। ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে সমাজটাকে চেটে পুটে খাচ্ছে এ ভন্ড রাজিনীতিকরা। নির্বাচন এলেই হজ্জ করে হাজী উপাধি লাগিয়ে মাজার জিয়ারত করে নিজেকে ধার্মিক প্রচারণার মত ধর্ম ব্যবসা আর কি হতে পারে? ওরা তো ধর্মের মুখোশ পরে ক্ষমতায় এসে কুরআনের একটি আইনও বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছে না, মসজিদগুলো দখলে নিয়ে আলেমদেরকে দাবিয়ে রেখেছে এবং কুরআন থেকে সত্য তুলে ধরার টুটি চেপে ধরে রেখেছে এই দুষ্ট রাজনীতিবিদেরা। ওরাই তো আসল ধর্মব্যবসায়ী যারা ধর্মের মুখোশ পড়ে মসজিদে কুরআনের কথা বলতে দিচ্ছে না। সুদ-ঘুষ চালু রেখে যাকাত ব্যবস্থাকে দাবিয়ে রাখছে। কুরআনে নিষিদ্ধ মাদক আর অশ্লীলতা দিয়ে সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ধর্ম ব্যবসায়ী সেই কুকুরে রাজনীতিবিদদের বিষয়ে আমরা শিক্ষিত নামধারীরা কয় লাইন লিখেছি? অথচ, ওরাই তো কুরআনের পথে বড় বাধা।
রাজনীতিবীদের এক অপকৌশল- ধর্মের নামে লোক দেখানো রাজনীতি
আপনি দেখেন ধর্ম ব্যবসায়ী আজকে আমাদের সমাজে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঠেকে গেছে। আমাদের সমাজের উচ্চপদস্থ যে সমস্ত নেতাকর্মীরা যারা ধর্মের ছায়াতলে এসে ধর্মীয় আকৃতি ধারণ করে, মানুষের ধর্মীয় দুর্বলতাকে বা ধর্মীয় সম্প্রীতিকে ধর্মীয় ভালোবাসাকে অর্জন করার চেষ্টা করে। আমরা দেখতে পাই যে, নির্বাচন যখন আসে তখন বহু লোক যারা সারা জীবন নাস্তিকবাদের পথে অগ্রসর হয়েছে নির্বাচনের আগে মাথায় টুপি লাগায়। যারা সারা জীবন হারাম উপার্জন বা হারাম পথে জীবন যাপন করেছে, তারাও নির্বাচনের আগে মাথায় ঘোমটা লাগায়, হাতে তসবি গনণা করে। মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য, মানুষকে বোঝানোর জন্য যে আমিও ধর্মের, আমিও ধর্মের অনুসারী. তোমরা আমাকে ভোট দাও বা আমাকে support করো। আপনি দেখেন নির্বাচনের আগে জোরালো ভাবে তারা ধর্মের পক্ষে খুব বড়ো বড়ো কথা বলেন। ধর্মের পক্ষে আওয়াজ তোলেন। তারা সারাবছর নামায পড়েননা অথয খেয়াল করে দেখবেন- নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ওই সমস্ত লোকগুলোই ইমাম সাহেবের বা মোয়াজ্জেম সাহেবের আজানের আগেই টুপিটাপি লাগায়ে, সুন্দর জামা গায়ে দিয়ে মসজিদে এসে উপস্থিত। মসজিদের ইমাম সাহেবের সামনে জুমার নামাজে দাঁড়িয়ে সকলের কাছে সালাম দিয়ে দোয়া চায়। এই যে দোয়াটা চায়- আমাকে সাপোর্ট করুন আমাকে ভোট দিন। এবার বলেন তো মসজিদের মধ্যে এসে ভোট চাওয়া মসজিদের মধ্যে এসে নির্বাচিত প্রার্থীরা নির্বাচনের প্রার্থীরা এসে মসজিদের দোয়া চাওয়ার অর্থ কি, রহস্য কি? এরা কি ধর্ম ব্যবসায়ী নন?
কুরবানীর ধর্ম ব্যবসায়ী, কোরবানীর ধর্ম ব্যাপারী
আবার, যখন কুরবানীর হাটে জন্তু বেচাকেনা হয়। কুরবানীর ঈদ ধর্মীয় একটা প্রোগ্রাম। আপনি দেখবেন যখন কোরবানির ঈদ আসে, যারা ধর্ম পালনকারী তারা কোরবানির জন্তুগুলো ক্রয় করে নিয়ে যান। কিন্তু যারা কুরবাণীর প্রোগ্রামে (বাজারে) চাদা তুলে খাচ্ছে। ইজারা নিচ্ছে। কোরবানির জন্তুর কাঁধের উপর দিয়ে আমাদের বাজারগুলিতে ধর্মের ব্যবসা করতেছে। তারা কারা? তারা কি ধর্মব্যবসায়ী নন?
এটি আপনার জন্য--
কুরআনের আলোকে সুখ দর্শন
কুরআনের আলোকে সুখ দর্শন
বাংলাদেশের আরেক মুখোশধারী ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী?
এরপর আসেন-- দুর্বৃত্ত ব্যবসায়ী, যারা পণ্যের দাম বাড়াতে সারাক্ষণ পরিস্থিতির সুযোগ নেয়, আবার ধর্মের মুখোশ পরে মসজিদের সভাপতি, সেক্রেটারীর পদটিও দখলে নিয়ে নেয়। যারা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নামের পূর্বে ইসলাম শব্দ ব্যবহার করে যত ভেজাল পণ্য বিক্রয় করে, সুদ মাদকের ব্যবসা করে, সেই আসল ধর্মব্যবসায়ীদের বিষয়ে আমরা ক'টি লাইন বা জানি।
আলেমদের মধ্যে ভুল-ত্রুটি আছে। কিন্তু তারা মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে আমাদেরকে কুরআন চর্চার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আর আমরা কি করছি ? সেই মসজিদ মাদ্রাসা কমিটির পদগুলো দখল করে আলেম সমাজকে চোখ রাঙ্গিয়ে দাপটের সাথে ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে, ধার্মিকতার মুখোশ পরে সুদ, ঘুষ, মাদক, অশ্লীলতার ব্যবসা করে যাচ্ছি। মায়ের জাত নারীদেরকে পণ্য বানিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছি। তা'হলে আসল ধর্ম ব্যবিসায়ী কারা এদেশে?
শেষকথাঃ দ্বীনের দায়িত্ব কি শুধু মাত্র আলেমদের উপর? দ্বীন প্রতিষ্ঠায়, আমাদের ভূমিকা কি?
ভুল সবারই মধ্যেই আছে। আলেমগণও ভুলের উর্ধ্বে নন। তাই বলে , তারা মানুষকে কুরআন থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে, গণহারে এভাবে বলা উচিত নয়। আমরা যারা নিজেদের মুসলীম মনে করি, জ্ঞানী-গুণী আর উচ্চ শিক্ষিত মনে করি, তাদের কাজটা কি? শুধু মাদ্রাসা পড়োয়াদেরই দায়িত্ব কুরআনকে এগিয়ে নেয়া? নাকি আমাদেরও সমদায়িত্ব আছে কুরআনকে সমাজে প্রচার ও প্রতিষ্ঠিত করতে?
আল্লাহ বলেননি- শুধু কুরআন পড়। তিনি একথাও বলেননি যে, ৬২৩৬টি আয়াত পড়ার মধ্যেই সব জ্ঞান পুঞ্জিত রেখেছেন। বরং এই কুরআনেই তিনি তাঁর নিদর্শন ও জ্ঞানের অনুসন্ধ্যানে পৃথিবী ভ্রমণ করতে বলেছেন। সত্যবাদী জ্ঞানীদের সাথে থাকতে এবং তাদের কথা শুনতে ও অনুসরণ করতে বলেছেন এই কুরআনেই বার বার। তাই, কুরআনকে বুঝতে হলে কুরআনের গভীরে ডুব দিতে হবে।
প্রিয় ভিজিটর, আশা করি- কারা ধর্মের অনুসারী আর কারা ধর্মের ব্যবসায়ী? কারা ধর্ম পালনকারী আর কারা ধর্ম ব্যবসায়ী এই বিষয়টি উপস্থাপন করতে পেরেছি। ভুল-ত্রুটি মাফ করেন নয়তো ধরিয়ে দিবেন।

Comments
Post a Comment