স্ত্রীদের যেমন হওয়া দরকার- স্ত্রীরা হৃদয় দিয়ে পড়ুন

স্ত্রীদের যেমন হওয়া দরকার- Human Philo
স্ত্রীরা! আপনি যদি আপনার স্বামীর সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়তে চান আপনি যদি তার হৃদয়ের আরো কাছে যেতে চান, আপনার মধ্যে যদি এই গুনগুলো থাকে তাহলে আপনাকে অবশ্যই এর থেকে আস্তে আস্তে ফিরে আসতে হবে। আজকের ব্লগপোস্ট- স্ত্রীদের যেমন হওয়া দরকার- স্ত্রীরা হৃদয় দিয়ে পড়ুন এ এরকম ২০ টি বিষয় নিয়ে  আলোচনা করা হবে। স্ত্রীদের কেমন হওয়া দরকার? আপনি যদি একজন নারী হন তাহলে আমার এই লেখাটি হৃদয় দিয়ে পড়ুন! স্ত্রীদের যেমন হওয়া দরকার? তা এই ব্লগের মাধ্যমে আপনি একজন স্ত্রীর বিশেষ গুণগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন। একজন স্ত্রীর বিশেষ বিশটি গুণ নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে এই ব্লগপোস্টে। একজন স্ত্রীর গুণগুলো কি কি হওয়া উচিত  সে সব জানতে এই ব্লগটি সম্পূর্ণ পড়ুন!----

❶ আপনি কি নিজেকে আপনার স্বামীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করেন?

আমাদের প্রচলিত সমাজে একটা কথা আছে- যে নারী বেশি চঞ্চলতা দেখায় বা বেশি মাতব্বরি করে অর্থাৎ যে নারী নিজেকে স্বামীর থেকে নিজেকে বেশি পন্ডিত মনে করে; সে সংসারে সুখ খুঁজে পাওয়া যায় না। আসলে বাস্তবতায় মিলও আছে। যে সংসারে স্বামীর থেকে স্ত্রী বেশি বোঝে, সে সংসারে উন্নতি তো হয় না বরং সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে। অশান্তি লেগে থাকে। মাঝে মাঝে এমন কথাও শোনা যায়- নারীর বুদ্ধিতে নাকি পুরুষ ফকির হয়। আর পুরুষের বুদ্ধিতে পুরুষ বাদশা পর্যন্ত হয়ে যায়। যাইহোক আসল কথা হচ্ছে, আপনি কি নিজেকে আপনার স্বামীর থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করেন? আপনি যদি স্বামীর থেকে নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করেন বা নিজেকে বড় মনে করেন, তাহলে আপনার এরূপ কাজে আপনার স্বামী ঠিকই কষ্ট পায়। কিন্তু অনেক সময় আপনাকে  বুঝতে দেয় না। একজন স্বামী কখনোই চায় না তার স্ত্রী তার উপরে মাতাব্বরি করুক। প্রত্যেক স্বামী মনে করেন- স্বামীর শ্রেষ্ঠত্ব স্ত্রীর শ্রেষ্ঠত্ব হওয়া উচিত। আর প্রকৃত নারীরা মনে করেন- আমার স্বামী আমার কর্তা। আমি চাই আমার স্বামী আমার থেকে শ্রেষ্ঠ থাকুক। আমার স্বামী বড় হওয়া মানে আমি বড় হওয়া। আমার স্বামীর সাফল্যে আমি নিজেকে গর্ববোধ করি।

❷ আপনি কি স্বামীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোরাজুরি করেন?

অনেক সময় দেখা যায় স্বামী স্ত্রীর মধ্যে জোড়াজড়ি চলে। স্ত্রী তার স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করে। যেমন ধরুন স্বামী বলতেছে এই কাজটা কর, এটা করলে ভালো হবে! কিন্তু আপনি আপনার স্বামীর কথামতো সেই কাজটি করতে একেবারেই নারাজ। বা এমন হতে পারে- আপনার স্বামী আপনাকে বলতেছে চলো আজকে ওই জায়গায় ঘুরতে যাব কিন্তু আপনি সেখানে যেতে চাচ্ছেন না বা আপনার পছন্দ মত অন্য জায়গায় যেতে চাচ্ছেন। অর্থাৎ আপনি আপনার স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতেছেন। এতে করে আপনার স্বামী যেমন আপনার প্রতি ক্ষুব্ধ হন তেমনি মানসিকভাবে কষ্ট পান। প্রত্যেক নারীই উচিত তার স্বামীর বিরুদ্ধে জড়াজড়ি না করা। আপনার স্বামী যা বলে তা পরম যত্নে মনোযোগ সহকারে শুনুন এবং তার ইচ্ছামতাবেক চলুন। আপনি কি আপনার স্বামীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোরাজুরি করেন? তাহলে আজ এই কাজটি করা থেকে বিরত থাকুন!

❸ অন‍্য নারীদের সাথে মিলে আপনার স্বামীর ব‍্যাপারে হা-হুতাশ করেন?

আমি মনে করি এটি একেবারেই জঘন্য কাজ। আপনি আপনার স্বামীর দোষ ত্রুটি বা দুর্বলতা নির্জনে স্বামীর সাথে আলোচনা করবেন, এতে কোন সমস্যা নেই। আপনি আপনার স্বামীর দোষ ত্রুটি বা ভুল বা দুর্বলতা ঘনিষ্ঠ সময় বলুন। স্বামীর দোষ ত্রুটি ভুল বা দুর্বলতা অন্য কোন নারীর সাথে আলোচনা করবেন না। এই কাজটা একেবারে নিন্দনীয় কাজ। স্বামীকে অন্য কারো কাছে ছোট করবেন না। এতে আপনার স্বামী লজ্জিত হয়, ইতস্ত বোধ করে এবং দিন দিন আপনার প্রতি স্বামীর মন থেকে ভালোবাসা উঠে যায়। এর থেকেও বড় সত্য হচ্ছে- । সুতরাং অন‍্য নারীদের সাথে মিলে আপনার স্বামীর ব‍্যাপারে হা-হুতাশ করবেন না!

❹ আপনি কি আপনার স্বামীকে বলেন যে অমুক কাজটা এভাবে করতে হয়! এরকম কথা প্রায়ই বলেন ?

ঠিক এরকম একটি আলোচনায় প্রথম স্টেপে বলা হয়েছে। স্বামীর থেকে স্ত্রী মাতব্বর। কিছু কিছু নারী আছে প্রতিটি কাজে স্বামীকে কথা শোনায়। স্বামীর দোষ বের করে। স্বামীর ভুল ধরে। আগবাড়িয়ে বলে- এই কাজটা এভাবে কেন করলে? এটা এভাবে করলে আরো ভালো হতো? সবকিছুতেই তুমি বেশি বোঝ? কোন একটা কাজ কি ঠিকভাবে করতে পারো? এই কথাগুলো হয়তো বলাটা স্বাভাবিক, স্ত্রী হিসেবে স্বামীকে বলতেই পারেন। এতে কোন সমস্যা নেই। তবে কিছু কিছু নারী আছেন যাদের স্বভাবটাই এমন প্রতিটি কাজে প্রতিটি পদে পদে স্বামী ভুল ধরে স্বামীকে খোঁটা দেয়। আপনিও কি আপনার স্বামীকে বলেন যে অমুক কাজটা এভাবে করতে হয়! এরকম কথা প্রায়ই বলেন? তাহলে এমনটি করবেন না!

❺ আপনি কি মনে করেন, আপনার স্বামী আপনার কথামতো চললে সবকিছুই ঠিক হয়ে যেত?

আমি যা করে তা সব ভুল। আমি যা বলি যেভাবে চিন্তা করি তাই হয়তো সঠিক। কিন্তু না। বাস্তবতা সম্পর্কে পুরুষ মানুষের ধারণা অনেকটাই বেশি। কখন কিভাবে কি করলে কি হবে বা কি হবে না তার পুরুষই ভালো জানে। বাস্তব সংবাদ অভিজ্ঞতা থেকে নারী যেমন কম বুঝে। তাপস যা হবে যেভাবে কাজ করো সিদ্ধান্ত নেয়। স্বামী-স্ত্রী সিদ্ধান্ত অনুযায় তার দোয়া। স্ত্রী হিসাবে আপনি কি মনে করেন, আপনার স্বামী আপনার কথামতো চললে সবকিছুই ঠিক হয়ে যেত? তাহলে এমনটি করবেন না।

❻ আপনি কি আপনার স্বামীর কথাবার্তা আড়ি পেতে শোনেন?

অনেকে স্ত্রী আছে স্বামী যখন কথা বলে তখন তা মনোযোগ সহকারে শোনে না বা গুরুত্ব দেয় না। একজন প্রকৃত স্ত্রীর উচিত স্বামী যখন কোন কথা বলে মনোযোগ সহকারে স্বামীর কথা শুনা দরকার। স্বামীর মতে, স্বামী চায় তার স্ত্রী যেন তার একজন ভালো শ্রোতা হয়। আপনি কি আপনার স্বামীর কথাবার্তা আড়ি পেতে শোনেন? আপনি যদি আপনার স্বামীর কথাবার্তা আড়ি পেতে না শোনেন। তাহলে এমনটি করা উচিত নয়।

❼ আপনি কি মনে করেন যে, পরিবারের ভিতর আপনিই একমাত্র সবকিছু বোঝেন?

ওই যে একটু আগে বললাম বাস্তবতা সম্পর্কে পুরুষের ধারণা অনেক উপরে। তাই আপনি যদি মনে করেন যে, পরিবারের ভিতর আপনিই একমাত্র সবকিছু বোঝেন। এমন ধারণা থেকে বিরত থাকুন।

❽ আপনি কি আপনার বাচ্চাদের লালনপালনে অতিরিক্ত চাপ অনূভব করেন?

মা এমন একটি মানুষ যার সংস্পর্শ সন্তানের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সন্তান সন্তান দিয়ে লালন-পালনের সবচেয়ে বড় ভূমিকায় থাকেন একজন মা। মার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা একটা শিশু হাসিমুখে বেড়ে ওঠে। কিন্তু এই সন্তান সন্ততিদের লালন-পালনে মাকে অনেক কষ্ট তখন করতে হয়। মাঝে মাঝে এমন একটা সময় আসে মা সন্তান পালনে ক্লান্ত হয়ে ওঠে। মা মনে করে সন্তান পালনে শুধু কি আমি ভূমিকা রাখব? বাবার কি কোন ভূমিকা নেই? সন্তান পালনে মা যখন হাপিয়ে যান তখন এমন চিন্তা করেন। সন্তান পালনের দায়িত্ব আমাকে কেন নিতে হবে। একজন স্ত্রী হিসেবে বা একজন মাস হিসেবে আপনি যদি আপনার বাচ্চাকাচ্চা লালন পালনে মানসিক চাপ ভোগেন অনুভব করেন। তাহলে আপনি একবার ভাবুন তো আপনার স্বামী আপনার জন্য বাচ্চাকাচ্চাদের জন্য রাত দিন কতটা পরিশ্রম করেন! তাই বাচ্চা কাচ্চা পালনে কখনো হাপিয়ে পড়বেন না অন্তত স্বামীর কথা চিন্তা করুন তিনিও তো অনেক কষ্ট করে সংসারটাকে চালাচ্ছেন। আপনার এমন কি বাচ্চাকাচ্চা সহ সকলের দায়িত্ব তিনি কাঁধে নিয়েছেন। বরং আপনার ভাবা উচিত- 

❾ স্বামী নিজে যেটা করতে পারতেন, সেটা আগ বাড়িয়ে করিয়ে দেন?

অনেক সময় স্বামী যেটা ইজিলি করতে পারতেন সেটা আগবাড়িয়ে না করে দেওয়াই উচিত।

❿ আপনার কি মাঝে মধ্যেই অস্থিরতা বিষণ্নতা বোধ হয়?

সংসার চলাকালীন অবস্থায় আপনার কি মাঝেমধ্যে অস্থিরতা বা বিষণ্ণতাবোধ হয়। সাংসারিক ছোট ছোট সমস্যায় অস্থিরতা বা বিষন্নতাবাদ করা। বা কোন বা কোন কারণ ছাড়াই বিষন্ন হওয়া একেবারেই ঠিক নয়। আপনার এমন স্বভাব স্বামীর মনে নেতিবাচকরা ফেলে। তাই মাঝে মধ্যেই অস্থিরতা বিষণ্নতা বোধ হওয়া যাবে না।

⓫ শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কি নিজেকে অনিচ্ছুক মনে হয়?

আপনার স্বামী যখন সেক্সের জন্য রেডি হয় বা সেক্স এর জন্য প্রস্তুত হয়। আপনাকে কাছে পেতে চায়। তখন কি আপনি অনিচ্ছুক মনোভাব দেখান? আপনার এরকম স্বভাব স্বামীর মনের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনও হতে পারে আপনার এরকম মনোভাবের কারণে আপনার স্বামী পরকীয়া লিপ্ত হবে। তাই যেনা ব্যভিচারের যুগে স্বামীকে নেতিবাচক দিক থেকে বাঁচাতে স্বামীর আবেগ অনুভূতির মূল্য দিন। তার স্বামীর যৌন চাহিদায় নিজেকে সবসময় প্রস্তুত রাখুন। স্বামী চায় আপনি তার প্রতিটি মতের পক্ষে থাকুন। শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে  অনিচ্ছুক মনোভাব- দাম্পত্য জীবনে বিপর্যয় বয়ে আনে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে টানা পড়া সৃষ্টি হয়,  বেড়ে যায় সন্দেহ। এমনকি সংসারও ভেঙ্গে যায়।  এই ব্যাপারটা একটি ভয়ংকর। তাই এমন স্বভাব থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। স্বামীর আবেগ অনুভূতির মূল্য দিন। প্রতিটি মুহূর্তে তার পাশে থাকুন।

⓬ আপনার স্বামীর জীবনে আনন্দ অথবা সফলতা আসলে আপনার ভেতর কি তিক্ততা বা হিংসা তৈরি হয়?

সৃষ্টিকর্তা তৈরি সবথেকে পবিত্র সম্পর্ক হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। এ সম্পর্ক না থাকলে যেমন পৃথিবীতে অসংখ্য নর-নারী আস্তানা তেমনি স্বামী স্ত্রী ছাড়া কেউ পৃথিবীতে টিকে থাকতে পারত না। বলা যেতে পারে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক মানুষের বেঁচে থাকার একটা অন্যতম ব্যালেন্স। স্বামী স্ত্রীর জন্য স্ত্রী স্বামীর জন্য। স্ত্রীর সৌন্দর্য যেমন স্বামীর সৌন্দর্য তেমনি স্বামীর আনন্দ ও সফলতা যেন স্ত্রীরা আনন্দ সফলতার কারণ হয়। স্বামীর জীবন আনন্দ বা সফলতা আসলে স্ত্রীর ভিতরে যদি তিক্ততা বা হিংসা তৈরি হয় তাহলে সে সম্পর্ক বেশিদূর পর্যন্ত যায় না। আর গেলেও সংসারে সুখ নামক বস্তু থাকে না। যে সংসারের সুখ থাকে না সে সংসার করা এবং না করা দুটোই সমান! সুতরাং স্বামীরা আনন্দ এবং সফলতার পিছনে কখনই তিক্ততা বা হিংসাত্মক মনোভাব আনবেন না। বরং স্বামীর জীবনের আনন্দ এবং সফলতা নিজেকে নিজের গর্ব হিসেবে ভাববেন। স্বামীর জীবনে আনন্দ স্বামীর জীবনের সফলতা আপনার জীবনেরও যেন গর্বের কারণ হয়। প্রকৃত নারীরা মনে করেন- আমার স্বামী আমার কর্তা। আমি চাই আমার স্বামী আমার থেকে শ্রেষ্ঠ থাকুক। আমার স্বামী বড় হওয়া মানে আমি বড় হওয়া। আমার স্বামীর সাফল্যে আমি নিজেকে গর্ববোধ করি।


⓭ আপনার স্বামীর দেয়া উপহার নিয়ে সমালোচনা করেন বা ফিরিয়ে দেন?

অনেক আশা করে স্বামী আপনার জন্য একটা গিফট এনেছেন কিন্তু সে গিফট আমি কোন ভাবে নিতেছেন না। বা গিফটটি আপনার হাতে দেওয়ার পর আপনি আনন্দিত হচ্ছেন না। ভাবনার স্বামীর দেওয়া উপহার বাকি ইস্ট গ্রহণ করলেও সে গিফটের সমালোচনা করতেছেন। আপনার এরকম ব্যবহার স্বামীর মনে কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ আপনার স্বামী কষ্ট করে উপার্জন করে অনেক আশা নিয়ে তার স্ত্রীর জন্য একটি গিফট এনেছেন। এখন তার স্ত্রী যদি তার সেই আসার মূল্যায়ন না করে, তখন কষ্ট পাওয়াটাই স্বাভাবিক। এমন সময় পুরুষের মনোভাব এরকম হয় যে- আপনার স্বামী হবে যার জন্য করলাম চুরি সেই বলে চোর। হয়তো ব্যাপারটি বুঝেছেন। সুতরাং আপনার স্বামীর দেয়া উপহার নিয়ে সমালোচনা করা বা ফিরিয়ে দেয়া থেকে বিরত থাকুন। বরং আপনার স্বামীর দেওয়া উপহার আপনি আনন্দের সহিত গ্রহণ করুন এবং আপনার হাসিমুখ দিয়ে স্বামীকও খুশি করুন।

⓮ বিচ্ছেদ নিয়ে ভাবেন? অথবা অন‍্য কারও ব‍্যপারে মনে হয়েছে কি, তার সঙ্গে আপনার জীবনটা দারুণ হতো?

নারীর মন সর্বদা তুলনা করতে অভ‍্যস্ত। এটা হলো তার স্বভাব যে স্বভাব থেকে তার মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। নতুন তুলনা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।  নিজের সমস্যা নিজের স্বামী এসব কেউ অন্য কিছুর সাথে তুলনা করবেন না। অন্য কারো সাথে তুলনা দিয়ে স্বামীকে ছোট করলে স্বামী অনেক বড় ধরনের কষ্ট পান। এবং নিজেও নিজেকে অনেক ছোট মনে করেন। তোর ব্যক্তিগত জীবন অনেক দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। সুতরাং এ তুলনা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন। যা আছে তাই নিয়ে সুখে থাকার চেষ্টা করুন, এবং বলুন আলহামদুলিল্লাহ।

⓯ স্বামীকে যেসব কারণে বেছে নিয়েছিলেন, সেগুলোকে এখন অসার মনে করেন?

বিয়ের পূর্বে আপনার স্বামীকে যেসব কারণে ভালো লাগতো বিয়ের পর কি এখন সেসব কারণ ভালো লাগে না। সেসব কারণগুলো কি অসার মনে হয়? বা আপনি স্বামীকে প্রায় বলে থাকেন- তোমার থেকে আমি ভালো কিছু পেতাম?

⓰ আপনি কি দাম্পত্য জীবন নিয়ে হতাশা বোধ করেন? 

এবং এর কারণ হিসাবে কি এমনটা মনে হয়- আপনার কোনো চাহিদাই পূরণ হচ্ছে না অনেক দিন, সব চাহিদায় অপূর্ণ রয়ে গেল?

⓱ আপনি কি অনেক ছোটখাটো ব‍্যাপারেও আপনার স্বামীকে সহজে বিশ্বাস করতে পারেন না?

সাংসারিক জীবনের স্বামী অনেক কথাই স্ত্রীকে বলে কিন্তু স্ত্রী তার কথা কোনভাবে বিশ্বাস করতে চায় না। সারাক্ষণ স্বামীকে সন্দেহের চোখে দেখে। আর স্বামী তাকে সহজেই সেই কথাটি বিশ্বাস করাতে পারে না। আপনাকে অনেক ছোটখাটো ব্যাপারে আপনার স্বামীকে সহজে বিশ্বাস করতে পারেন না? স্বামীর উপর থেকে অবিশ্বাস দূর করুন। বিশ্বাস রেখে দাম্পত্য জীবন গঠন করুন। কথায় আছে বিশ্বাসে ফুল ফোটে।

⓲ নিজেকে আপনার স্বামীর নিয়ন্ত্রণক মনে হয়?

আপনি কি আপনার স্বামীকে কর্তা হিসেবে মানেন?
নাকি নিজেকে আপনার স্বামীর নিয়ন্ত্রক বলে মনে হয়? নিজেকে যদি স্বামীর উপরে নিয়ন্ত্রক মনে হয় তাহলে, স্বামী আপনার উপর থেকে অনেক দায় দায়িত্ব কমিয়ে ফেলবেন। সুতরাং স্ত্রী হিসেবে নিজেকে স্বামীর উপরে নিয়ন্ত্রক ভাববেন না। বরং স্বামী তো আপনার নিয়ন্ত্রক ভাবুন। প্রকৃত নারীর চিন্তাধারা হচ্ছে- স্বামী হচ্ছে আমার সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অভিভাবক।

⓳ আপনি কি বলেন 'আরে তুমি পারবা না' বলে সব দায়িত্ব নিজে নিয়ে নেন?

ধরুন আপনার স্বামী একটি কাজ করতে উদ্ধত হলেন আর আর আপনি তো বললেন আরে তুমি পারবা না। তখন কিন্তু আপনার স্বামী আপনার উপর থেকে অনেক দায়িত্বই কমে ফেলবেন। আপনি কি আপনার স্বামীকে বলেন আর তুমি পারবেনা বলে এসো সব দায়িত্ব নিজে নিয়ে নেন? এটি  না করায় আপনার জন্য উত্তম।

⓴ আপনার স্বামী যখন কোনো খারাপ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, তখন কি আপনি তার উপরে রেগে যান?

এমনও হতে পারে ভুল করে আপনার স্বামী একটি খারাপ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তখন কি আপনি তার উপর রেগে যান? আপনি যদি এমন অবস্থায় রেগে যান তাহলে আপনার স্বামী কিন্তু একা একা আছেন যত থেকে ফিরে আসবে না। স্ত্রী হিসেবে আপনি তাকে ঠান্ডা মাথায় বুঝিয়ে বলুন। যে তুমি যা করছো তা কি ঠিক?

❏ স্ত্রীদের কেমন হওয়া দরকার? 

স্ত্রীদের যেমন হওয়া দরকার- স্ত্রীরা হৃদয় দিয়ে পড়ুন এ ব্লক পোস্টে জানলাম- 
স্ত্রীরা কেমন হবে?
স্ত্রীদের যেমন হওয়া দরকার!
স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর আচরণ
স্ত্রীদের কেমন হওয়া দরকার?
স্বামীর সাথে স্ত্রীর ব্যবহার কেমন হওয়া দরকার? 
স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্ক কেমন হওয়া দরকার?
সম্পর্ক সুন্দর করতে স্বামী স্ত্রীর এসব করা উচিত
সুখী পরিবার গঠনে স্ত্রী ও স্বামীর ভূমিকা কি কি
স্বামীর ভালোবাসা পেতেই  যা যা করা দরকার
সংসারে সুখ আনতে স্ত্রীরা যেভাবে ভূমিকা রাখবেন
বউ বা স্ত্রী হিসেবে একজন নারীর কেমন হওয়া উচিত?
সংসার জীবন একজন নারীর যেসব গুণ থাকা দরকার
স্ত্রীদের যেসব কম থাকা প্রয়োজন
সম্পর্ক সুরক্ষায় স্ত্রীর ভূমিকা কি
দাম্পত্য সংসারে সুখী হতে স্ত্রীদের যেসব করা দরকার
একজন স্বামী কেমন বউ কামনা করে?
স্ত্রী যেসব গুণ স্বামী আশা করে
একজন স্বামী স্ত্রীকে কেমন ভাবে আশা করে
স্ত্রীর কাছ থেকে  স্বামীর চাওয়া পাওয়ার গুলো কি কি?
সুখী পরিবার গঠনে স্ত্রীর ভূমিকা

Comments

Post a Comment