এত পড়ি তবু কেন ভুলে যাই | পড়া মনে রাখার কৌশল | পড়া মনে রাখার কয়েকটি উপায়

এত পড়ি তবু কেন ভুলে যাই! আর পড়বোই না শুধু ভুলে যাই! মাথাটা যদি মেমরি, এসএসসি কার্ড বা কোন হার্ডডিক্স এর মত হত তাহলে পরীক্ষার খাতায় সব একেবারে ঢেলে দিতাম!

এরকম হাজারো চিন্তার সমাধান নিয়ে কাজ করতে করতে আমাদের মাথায় কিছু আইডিয়া চলে এলো এর সমাধান নিয়ে। আগে মনে রাখতে হবে "মনে রাখা" বলতে কি বুঝি আর মনে কেন রাখতেই হবে!! 

এত পড়ি তবু কেন ভুলে যাই | পড়া মনে রাখার কৌশল | পড়া মনে রাখার কয়েকটি উপায়
কোন বিষয় মনে রাখা হলো সে বিষয়ের স্মৃতিটি পরিপূর্ণ জেগে তুলতে পারার ক্ষমতার ব্যাপারটি বুঝিয়ে থাকি। মনে রাখার ক্ষমতা বা স্মৃতিশক্তি  দিয়ে এমন অবাক করা অনেক কাজ করা যায় যার দরুণ আপনি সারা পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারবেন। পরীক্ষা মানে হলো; স্মৃতির ব্যাপারটি উঠে আসে। আপনি কি পড়লেন বা জানলেন  তার সব ব্যাপারে যদি পুনঃপুন মনে করতে না পারেন তাহলে আপনার স্মৃতির অক্ষমতাকে বোঝায় আর তা যদি আপনি পারেন পুনঃপুন স্মৃতিকে নিয়ে আসতে তাহলে অনায়াসে আপনি বিসিএস, ভর্তিযুদ্ধ বা অন্য প্রতিযোগিতার পরীক্ষায় আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারবেন। ধরুন আপনি একটা চাকরির ভাইবা বা অন্য কোন ভাইবা পরিক্ষা দিতে গেলেন এবং সেখানে আপনাকে একটি সাধারণ প্রশ্ন করল কিন্তু আপনি তার উত্তর জানেন অথচ সেই মুহূর্তের জন্য তার উত্তর দিতে পারলেন না মনে না থাকার কারণে যার ফলে আপনার সম্মানের বা পছন্দের পেশাটি হারিয়ে ফেললেন। এর কারণ আপনার স্মৃতি ধরে রাখার দুর্বলতা অর্থাৎ কৌশলের দুর্বলতা। পৃথিবীতে আপনি যদি সৃজনশীল ব্যক্তিত নাও হন তবু আপনি স্মৃতি বা মনে রাখার ক্ষমতা কে প্রয়োগ করে সাফল্য অর্জন করতে পারবেন।

মনে রাখার এই ব্যাপক প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই আজকে আমাদের এই পোস্ট। তো চলুন শুরু করা যাক পড়া মনে রাখার কিছু টেকনিক বা কৌশল। আমরা কেন ভুলে যাই! আর কেনই বা পড়া মনে রাখতে হবে! পড়া মনে রাখার সহজ কিছু টেকনিক বা কৌশল নিচে তুলে ধরা হলোঃ 

সূচিপত্রঃ পড়া মনে রাখার কৌশল
আমরা ভুলে যাই কেন? Humanphilo

আমরা ভুলে যাই কেন?

আপনি যদি কোন ঘটনাকে খুব আগ্রহের সহিত গ্রহণ না করেন  এবং উক্ত বিষয়ে মনোযোগী না হন তখন আপনি সেই উপরোক্ত বিষয়টি ঠিক মনে রাখতে পারবেন না। ভুলে যাওয়া একটি লজ্জাজনক ও দুঃখজনক ঘটনা যেমন আপনাকে বাজারে গিয়ে লবণ ও হলুদ আনতে বলা হলো কিন্তু আপনি এখন বাজারে গিয়ে সব জিনিস কিনলেন এবং আপনার বাজার শেষে বাড়িতে এসে মনে হলো আপনি হলুদ ও লবণ আনতে ভুলে গেছেন এর মূল কারণ হলো উদ্দেশ্য ভুলে যাওয়া। বাজারে যাওয়ার অনেক উদ্দেশ্য ছিল কিন্তু আপনার উক্ত উদ্দেশ্যগুলো আগ্রহ ও মনোযোগ সহকারে গ্রহণ করেননি। উদ্দেশ্য ছাড়া আপনি যে কোন ঘটনা ভুলে যাবেন এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। তাই ভুলে যাওয়া রোধে উদ্দেশ্য স্থির করুন এবং একমুখী উদ্দেশ্য গ্রহণ করুন। 

পড়ার সময়

আমরা জানি খেলার সময় বিকেল বেলা, আমের সময় জ্যৈষ্ঠ মাস, কালবৈশাখী ঝড় হয় বৈশাখ মাসে, বৃষ্টি হয় বর্ষাকালে, ফাল্গুনে লাল শিমুল ফোটে আর মাঘে হয় শীতকাল। এভাবে প্রত্যেকটি বিষয়ের নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে। উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত অবস্থায় কোন কাজ করলে তা সাফল্যমন্ডিত হয় বেশি। সকালবেলা মন ও শরীরে স্থির থাকে। স্নায়ুকোষগুলো ধীরে ধীরে উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে তার নিজের কাজ সবেমাত্র শুরু করে। সকালের পরিবেশ নিরিবিলি মনোরম, বাহিরে শব্দ দূষণ মুক্ত, কোলাহল মুক্ত, অক্সিজেন সমৃদ্ধ স্নিগ্ধ বাতাস, সূর্যের নরম সাদা শ্রূভ্র আলো এছাড়া মনোযোগ আকর্ষণরী পাখির কিচিরমিচির মধুর আওয়াজ। এই পরিবেশে শরীরের মনোযোগের আকর্ষণকারী হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে। তাই সকালের পড়া আমাদের মনে রাখার ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। আর বিকেল বেলা আমাদের স্নায়ুর উত্তেজক হরমোন ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে যার ফলে সকালের মতো আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ বেশি থাকেনা। সকাল ও সন্ধ্যায় নিয়মিত অধ্যায়ন আমাদের মনে রাখার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ তাই আমাদের সকাল ও সন্ধ্যায় পড়তে হবে। 

পড়ার পরিবেশ

কোন কাজ শুরু করতে হলে তার উপযুক্ত পরিবেশ এই কাজটি শুরু করা উচিত। পরিবেশ সকল ঘটনার ওপর প্রভাব ফেলে। শীতের পরিবেশে আমাদের ঠান্ডা লাগে, গ্রীষ্মকালে আমাদের গরম লাগে, আগুনের কাছে গেলে যেমন আমাদের তাপ লাগে তেমনি ভাবে নিরিবিলি পরিবেশে আমাদের মন স্থির ও অত্যন্ত মনোযোগী হয়। মনে রাখার ক্ষেত্রে মনোযোগের গুরুত্ব অপরিসীম যা পরবর্তী কৌশল আলোচনা  করা হবে। পরিবেশের প্রভাব যখন আমাদের দেহে মনে পড়ে তখন একটি উপযুক্ত পরিবেশ শব্দ দূষণ মুক্ত পরিবেশ,জনকীর্ণ ও জনবহুল পরিবেশ বা শব্দবহুল পরিবেশে পড়াশুনা করলে আমরা আমাদের মনযোগটি ঠিকমত দিতে পারি না তাই আমাদের মনে রাখতে হলে একটি উপযুক্ত পরিবেশ দরকার। সেই পড়ার ঘর এবং ঘরের যেখানে টিভি,মোবাইল, উচ্চশব্দ জনকীর্ণ না হয়। মনোরম গাছপালা সুন্দর আলো আর আরাম চেয়ার টেবিল থাকা দরকার যেখানে আমরা সুন্দরভাবে পড়তে পারি তাই পড়ার সময় সুন্দর পরিবেশের কথা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

দাগিয়ে পড়া

বিভিন্ন কালার পেন ব্যবহার করলে মস্তিষ্কে আমাদের সেই কালার গুলোকে মনে রাখতে পারে খুব সহজেই। কালার গুলো সাধারণত সাদা, কালো, লাল, নীল কালার পেনে ব্যবহার করতে পারেন এতে আপনার মনে রাখার ক্যাপাবিলিটি অনেক বেড়ে যাবে। 

হাইলাইটস 

মেইন মেইন ব্যাপারগুলোকে হাইলাইটস করলে সেগুলোর সাথে অন্য কোন কথাগুলি খুব সহজেই বেরিয়ে আসে। যেমন কান টানলে মাথা আসে সে রকম ব্যাপার। আপনি যদি তার গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি মনে রাখেন তাহলে তার সাথে জড়িত ব্যাপারটি সহজেই আপনার মাথায় আসবে ও মনে থাকবে। ধরুন আপনি একটা বিষয়ে পড়লেন কিন্তু সম্পূর্ণ লেখাটি হয়ত আপনার কাছে মনে রাখা কষ্টসাধ্য ব্যাপার হতে পারে সে ক্ষেত্রে আপনি যদি পুরো বিষয়টিকে কিছু হাইলাইটস এর মাধ্যমে চিহ্নিত করেন তাহলে খুব সহজেই মনে থাকবে। যেমন আপনি পড়া মনে রাখার কৌশল সম্পর্কে কোন একটি আর্টিকেল পড়লেন কিন্তু এত বড় আর্টিকেল মনে রাখা কঠিনতর, সেক্ষেত্রে আপনি যদি পড়া মনে রাখার কৌশল এর মূল শব্দ বা টপিকগুলো বাছাই করেন করে নোট করেন তাহলে পুরো বিষয়টা মনে রাখা খুব ইজিলি হবে এবং  স্মৃতিটা দীর্ঘস্থায়ী জুড়ে মস্তিষ্কে সেইভ থাকবে।

রিভিশন

রিভিশন একটি ইংরেজী শব্দ যার বাংলা অর্থ পুনরাবৃত্তি অর্থাৎ কোন একটা বিষয়কে বারবার মনে করাই হলো রিভিশন। পড়া মনে রাখার জন্য রিভিশন খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বজায় রাখে। আমরা জানি একটা বিষয়কে যত বেশি পর্যালোচনা বা পুনরাবৃত্তি করা হবে ততই সে বিষয়ের প্রতি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে তেমনি অন্যদিকে যতই কোন বিষয়টি পর্যালোচনা কমিয়ে আনা হয় মস্তিষ্ক ঐ বিষয়টাকে কম গুরুত্ব দেবে বা সরে আসবে। যেমন ধরুন আপনি একটা তীক্ষ্ণ ধারালো ছুরি কিনে আনলেন এবং কিছুদিন ব্যবহার করে ছুড়িটি ব্যবহার করা বন্ধ করেন তখন ছুড়িটির কি হবে? ছুড়িটায় মরীচিকা পড়বে। ঠিক আমাদের মস্তিষ্ক এভাবে কাজ করে। আপনি যত বেশি ব্যবহার করবেন ততই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা এবং মনে রাখার প্রবণতা বেড়ে যাবে।

মনোযোগ

উপরোক্ত আলোচনায় আমরা যে যে বিষয় কয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি তার মধ্যে থেকে প্রত্যেকটি যদি  প্রত্যকটি থাকে কিন্তু আপনি মনোযোগী না হন তাহলে আপনি কিছুই মনে রাখতে পারবেন! মনে রাখার ফাস্ট কনডিশন ই হলো ইউ হ্যাভ টু বি এ্যাটেন্টিভ আপনাকে মনযোগী হতে হবে! মনোযোগ হচ্ছে পড়া মনে রাখার সর্বোত্তম হাতিয়ার। মনোযোগ হয় দ্রুতগতি চঞ্চল স্বভাবের। মনযোগ এক জায়গা বা এক বিষয় থেকে আরেক বিষয়কে খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়। আপনি পড়তেছেন এবং মোবাইলে ফেসবুক, ইউটিউব, গেম খেলছেন আবার কেউ কেউ জোরে জোরে গান বাজান এতে মনোযোগের সমস্যা হয়। 

২৫ মিনিটের বেশি কেউ একটানা মনোযোগ দিতে পারেনা, মনোযোগের ক্ষেত্রে আমরা ২৫ মিনিট পর পর আবার ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে আবার পড়া শুরু করতে পারি। এতে আমাদের মনোযোগ অধিক স্থায়ীত্ব হবে। মনোযোগ আনার ক্ষেত্রে বিচিত্র বিষয় পড়া ভাল।

একই বিষয়ে একটানা না পড়ে বিষয়ে ভিন্নতা আনুন তাহলে মনোযোগ প্রখর হবে। এতে খুব সহজেই পড়া মনে থাকবে। মনোযোগী হতে হলে সকল দুশ্চিন্তা ভাবনা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে সুন্দর করে পড়ার নিজের  মনের প্রতি লক্ষ্য রেখে মন যাতে বারবার পরিবর্তন না হয়। তাই সেই বিষয়ের প্রতিকার দ্বারা অধিক দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মনোযোগী হওয়া যায়। তাই পড়া মনে রাখার ক্ষেত্রে মনোযোগের গুরুত্ব অপরিসীম।

হাফেজদের কুরআন পড়া 

হাফেজ কুরআন মুখস্থ করতে মাগরিবের আজান থেকে এশা পর্যন্ত সময় কুরআন মুখস্থ রাখে। আপনি চাইলে এই সময়টুকু গুরুত্ব মনে করে পড়তে পারেন কারন এই সময়ে মস্তিষ্ক অনেক তথ্য নিতে পারে বলে বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। পড়া মনে রাখার কোন মন্ত্র নেই। 

পড়া মনে রাখতে মনকে নিয়ন্ত্রণ আনা দরকার

মনকে কিভাবে নিয়ন্ত্রনে আনবেন? আপনি যদি ধর্মীয় কিতাব পড়েন। ইবাদত করেন, তাহলে অটোমেটিক্যালি আপনার মনের মধ্য যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবেন, মন ফ্রেশ ও প্রণবন্ত থাকবে যা আপনার পড়া মনে রাখার ক্ষেত্র অনেক বড় ভূমিকা রাখবে। কারণ ভালো কাজ মস্তিষ্কের ম্মৃতি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে আর মন্দ কাজ তাহার বিপরীত কাজ করে। 

যে খাবারগুলো স্মৃতি বাড়াতে সাহায্য করে 

পড়া মনে রাখার ক্ষেত্রে সুষম খাদ্য গ্রহণ দরকার।  সুষম খাদ্যে সুঠাম শরীর এবং সুঠাম শরীরে সুন্দর মন। সুষম খাদ্য শরীর ও মন দুদিকেই অতীব ভূমিকা পালন করে। যে সকল খাবার খেলে স্মৃতি বাড়ে এবং পড়া মনে থাকে - ডিম,দুধ, বাদাম, মাখন/ঘী জাতীয় খাবার, ফলমূল, মাছ, জিংক জাতীয় সবজি শাক খেলে মস্তিকের স্মৃতি ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

পড়া মনে রাখার ক্ষেত্রে ক্ষতিকর খাবার 

একজন মানুষ সুস্থ থাকার পূর্ব শর্ত হচ্ছে সুস্থ খাবার (সুষম খাবার) খাওয়া। কিন্তু কেউ যদি তাহার বিপরীত কিছু করে ফেলে তখন কি হবে! যেমন যদি এসব খায়> সিগারেট, গাজা, কোকেইন, ইয়াবা, জর্দা, এইচডি ইত্যাদি। এসব তামাক নেশাজাতীয় দ্রব্য শরীরের জন্য ক্ষতি করে থাকার, মস্তিষ্কের কার্জক্ষমতা কমায়, স্মৃতি লোপ পায় সুতরাং পড়া মনে রাখতে এসব নেশা জাতীয় দ্রব্য পরিহার করতে হবে। 

বুঝে বুঝে পড়া

যে বিষয়টি পড়বেন তা বুঝেও বুঝে পড়তে হবে। পড়া মনে রাখার গুরুত্বপূর্ণ কন্ডিশন হল মনোযোগের সহিত বুঝে বুঝে পড়তে হবে। কোন একটা বিষয় না বুঝলে তা ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়তে হবে এটা অনেকটা কাজে লাগবে পড়া মনে রাখতে। কোন জিনিস সাজানো গোছানো থাকলে তা আমাদের মনে থাকে বেশী তাই বুঝে পড়লে মনে বেশি থাকে বেশি দিন।

ট্রি (tree) ব্যবহার

ট্রি ব্যবহার করলে মনের মধ্যে এক ধরনের ছাপ পড়ে। এই ছাপটি পরবর্তীতে মনে রাখার ক্ষেত্রে সাহায্য করে তাই পড়াশোনা করার সময় ট্রি ব্যবহার করে আমরা অনেকদিন পড়া মনে রাখতে পারি।

ছন্দ ব্যবহার ব্যবহার

ছন্দ ব্যবহার যেমন হাস্যকর হয় তেমনি আমাদের মনে রাখার হাস্যকর তথ্য বা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেশি মনে থাকে তাই পড়ার সময় ছন্দ এর পাশাপাশি কবিতার সাহায্যে কঠিন বিষয়কে সহজে মনে রাখতে পারি। যেমন সাতরং মনে রাখার ছন্দ "বে-নী-আ-স-হ-ক-লা"

তুলনা ব্যবহার করে পড়া

তুলনা ছাড়া কোনো কিছুকে বোঝা সম্ভব নয়। তুলনা ছাড়া আমাদের মস্তিষ্ক স্মৃতি রূপে গ্রহণ করতে চায় না। তুলনার সাহায্য নিয়ে আমরা অনেক বিষয় খুব সহজে মনে রাখতে পারি। তুলনা ছাড়া আমাদের স্মৃতি গ্রহণ ক্ষমতা খুব কম থাকে এবং বুঝেও কম। যেমনঃ ইতিবাচক(pasitive)-নেতিবাচক(negative); উপরোক্ত দুটি কথার অর্থ মনে রাখতে আমাদের হিমশিম বা ঘোর সন্দেহে পড়তে হয়। মনে করুন আপনি একটি বিষয় পড়লেন, সেই বিষয়টিকে যদি অন্য একটি বিষয়ের সাথে তুলনা করেন তাহলে ব্যাপার আপনার কাছে সহজলভ্য হবে। এজন্য তুলনা ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই অনেক তথ্য বেশি মনে রাখতে পারি। 

পড়া মনে না নিয়ে থাকার যত প্রশ্ন

পড়া মনে রাখার ইসলামিক উপায়, পড়া মনে রাখার গোপন কৌশল, বাচ্চাদের পড়া মনে রাখার কৌশল, পড়া মনে রাখার মন্ত্র, পড়া মনে রাখার সূরা, কঠিন পড়া মনে রাখার উপায়, পড়া মনে রাখার খাবার, পড়া মনে রাখার দোয়া, পড়া মনে রাখার সহজ টেকনিক, মনে রাখার ঔষধ, পড়া বোঝার উপায়, পড়া কি, পড়াশোনা মনে রাখার নিয়ম, পড়া মনে না থাকার কারণ কি, Porasona mone rakhar upay, এই সকল প্রশ্নের উত্তর নিয়ে উপরে আলোচনা করা হয়েছে। 

শেষকথাঃ পড়া মনে রাখার উপায় কি?

বিঃদ্রঃ- মনে রাখার ক্ষেত্রে আমরা যত কৌশল ব্যবহার করি, যতই টেকনিক, যতই সহজ উপায় খুজি, এর কোনটিতেই কাজ হবেনা। "পড়া বিকল্প পড়া" এই কথাটা মাথায় গেঁথে নিন আর পড়ুন, বেশি বেশি পড়ুন! কুরআনের প্রথম আয়াত প্রথম আদেশ ই হচ্ছে 'পড়ো' আল্লাহ বলেন-
“তুমি পড় তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন”
— সুরা আলাক, আয়াত ১

অতএব পড়া মনে রাখার সর্বোক্তম উপায় হলো পড়তে হবে বেশি বেশি। আগেই বলেছি পড়া মনে রাখার বিকল্প পড়া।

Comments