ভাগ্য দর্শন - ভাগ্যের কুৱআনিক তত্ত্ব - ভাগ্য কি? - ভাগ্য-তাকদীৱ সম্পর্কে কুসংস্কাৱ

ভাগ্য দর্শন - ভাগ্যের কুৱআনিক তত্ত্ব  humanphilo

ভাগ্য সংক্রান্ত প্রচলিত কথাগুলোৱ বেশিৱভাগই কুৱআন সম্মত নয়! যেমন কাৱো কেন বিপদ বা অকল্যাণ হলে মানুষ বলে এটা ভাগ্য ছিল। কিন্তু এসব কথা হলো - মহান বিধাতা আল্লাহৱ নামে মিথ্যা কথা। মানুষ এসব বলে তাৱ অজ্ঞতা ও মনেৱ ভেতৱে লালিত মুশৱিকির কাৱণে। ভাগ্য-তাগদীর আমাদেৱ নানা ধরণের প্রশ্ন মাথায় আসে। যেমনঃ ইসলামে ভাগ্য কি? ভাগ্য কি সত্যি মাতৃভাষার মাধ্যমে শিখ্যায়? মানুষের ভাগ্য কিভাবে সুপ্রসন্ন হয়? ভাগ্য কি পরিবর্তন হয়? আমার ভাগ্য কি আছে? এছাড়া আরও সার্চ করে থাকেন- ভাগ্য খারাপ হয় কেন? তকদির মানে কি? চাকরি কি ভাগ্যে লেখা থাকে? যার অর্থ ভাগ্য ভালো, ভাগ্য কত প্রকার? ভাগ্যে যা আছে তাই হবে,প্রজ্ঞাপূর্ণ অর্থ কি? দোয়া কি ভাগ্য পরিবর্তন করে? এধরণের জটিল কিছু প্রশ্নের উত্তর নিয়ে লেখার চেষ্টা করব। ব্লগপোস্টটি পড়ুন। 
সূৃচিপত্রঃ ভাগ্য দর্শন | ভাগ্যের কুৱআনিক তত্ত্ব

ভাগ্য কি?

ভাগ্য হল তাকদির বা নিয়তি অথবা ললাটের লিখন বা অদৃশ্যের লিখন যা খন্ডানো বা মুছে ফেলা যায়না-- what is lotted can not be blotted. তবে, কর্মের দ্বারা ভাগ্যকে  কিছুটা পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যায়।

 ❝মানুষের জন্য তার সামনে ও পেছনে একের পর এক প্রহরী থাকে; ওরা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। নিশ্চয় আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না; যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে। আর কোন সম্প্রদায়ের সম্পর্কে যদি আল্লাহ অশুভ কিছু ইচ্ছা করেন তাহলে তা রদ করবার কেউ নেই এবং তিনি ছাড়া তাদের কোন অভিভাবক নেই❞
— সূরা রাদ(১৩), আয়াত ১১

মানুষের ভাগ্য কি আগেই থেকেই লেখা থাকে?

ভাগ্য সংক্রান্ত প্রচলিত কথাগুলোর বেশীরভাগই কুরআন সম্মত নয়। যেমন, কারো কোন দুঃখ, কষ্ট, বিপদ বা অকল্যাণ হলে মানুষ বলে এটা তার ভাগ্যে ছিল। আমরা জানি, ভাগ্যের লেখক স্বয়ং আল্লাহ! তা'হলে - আল্লাহ কি মানুষের ভাগ্যে দুঃখ, কষ্ট, বিপদ-আপদ, বিপর্যয়, ব্যর্থতা এসব আগেই লিখে রাখেন? উত্তর হল-- না! এসব আল্লাহর নামে মিথ্যা কথা। মানুষ এসব বলে থাকে তার অজ্ঞতা ও মনের ভিতরে লালিত মুশরিকি আকিদার কারণে। আসলে, জন্মগতভাবে কেও দুর্ভাগ্য নিয়ে জন্মায় না। কারণ, আল্লাহ বলেন--

❝যখন তারা কোন অশ্লীল আচরণ করে, তখন বলে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষগণকে এটা করতে দেখেছি এবং আল্লাহও আমাদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছেন। বল, আল্লাহ অশ্লীল আচরণের নির্দেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু বলছ, যে বিষয়ে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই?❞
— সূরাঃ আল-আরাফ [৭ঃ ২৮]

এবং আল্লাহ কাউকে কষ্টও দিতে চান না। যেমনঃ আল্লাহ বলেন-- 

❝তোমাদের কষ্ট দিয়ে আল্লাহ কি করবেন যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর এবং ঈমানের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক আর আল্লাহ হচ্ছেন সমুচিত মূল্যদানকারী, সর্বজ্ঞ।❞
— সূরাঃ নিসা [৪:১৪৭]

মানুষ নিজেই তার ভাগ্য নির্মাতা!?

মূলত: মানুষ নিজেই তার ভাগ্য নির্মাতা। যেমনঃ আল্লাহ বলেন--

❝আল্লাহ কোন জাতির ( বা ব্যক্তির) অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।❞
— সূরাঃ আর-রাদ [১৩ঃ ১১ ]

ভাগ্য হল এই যে, প্রতিটি মানুষই তার কর্ম অনুযায়ী দুনিয়া ও আখেরাতের ফল ভোগ করবে। যে ব্যক্তি শুধু দুনিয়ার সুখের কাঙাল, আল্লাহ তাকে তার পুরোটা কিংবা সামান্য কিছু দিয়ে দেন, আখেরাতে তার জন্য রয়েছে জ্বলন্ত আগুন। আর যে ব্যক্তি আখেরাতের সুখের কাঙাল, আল্লাহ তার সৎকর্মের বিনিময়ে দশ গুণ কিংবা বেহিসাবী প্রতিদান দিবেন। দুনিয়াটা তার জন্য পাপ খন্ডানোর কারাগার এবং পূণ্য অর্জনের পরীক্ষার হল মাত্র। [দেখুনঃ ১৭ঃ১৮-২০ | ১১: ১৫--১৬ ] -- এসবই ভাগ্যের লিখন যা, কুরআন দ্বারা সত্যায়িত। দুনিয়াটা মুমিনদের জন্য তত সুখের নয়, উপরন্তু রয়েছে ঈমানের পরীক্ষা দেওয়ার কষ্ট। আর ঈমানহীন দুনিয়াভোগীদের জন্য দুনিয়াটা হল ভোগের। অতি লোভ ও ভোগের জন্য তাদের উপর নেমে আসে গজব ও অসম্মান, আখেরাতেও তাদের জন্য শুন্য। ভাগ্যের লিখন এই যে, কষ্ট, পরিশ্রম, ধৈর্য ও সবরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলে তবেই আমরা আল্লাহকে দেখতে পাবো। অন্যথায় জাহান্নাম হবে চিরস্থায়ী ঠিকানা। সুতরাং, দুনিয়ার চাকচিক্য, অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্য আর ভোগ-বিলাসের মোহে আমরা যেন কাতর না হয়ে পড়ি।

ভাগ্য বা তাকদিরের চুম্বক কথাগুলো হল--

  • আমাদের সবাইকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। দুনিয়াতে কারো জীবন চিরস্থায়ী নয়। এটাই তাকদিরের লেখা।
  • ভাল করলে বিনিময়ে দশগুণ ভাল ফল, আর মন্দ করলে মন্দের সমান মন্দ ফল পাবে। এটাও তাকদিরের লেখা।
  • এ দুনিয়াটা একটা ধোকাবাজির স্থান। এখানে, আসলে কেউ কারো নয়। তবু, সকলের তরে সকলের দায়িত্ব আছে। তাকদিরের লেখাটা এমনই।
  • দুনিয়াতে এসেছি একা, দুনিয়া ছেড়ে যেতে হবে একা। এটাই নিয়তি।
  • মৃত্যুর পর আর কোন এবাদত এবং তওবা নেই। এটাই তাকদির বা ভাগ্য।
  • দুনিয়াটা যত কষ্টেরই হোক, এখান থেকেই মুক্তির সনদ অর্জন করতে হবে। এটা ললাট বা ভাগ্যের লিখন।
  • কখন, কোথায়, কি অবস্থায়, কিভাবে মৃত্যু হবে, কেউ জানে না। এটা অদৃশ্য বা নিয়তির লেখা।
  • দুনিয়াতে মুমিনদের জন্য রয়েছে ঈমানের পরীক্ষা, কষ্ট  এবং সুফল। এটা খন্ডানোর উপায় নেই।
  • আগামীকাল কি খাবে কেউ জানে না। এটা নিয়তির লিখন।
  • একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ গায়েব বা অদৃশ্যের খবর জানে না। এটা মানুষের নিয়তি।
  • হায়াত ও রিজিক কর্মের গুণে বাড়ে অথবা কর্মদোষে কমে। এটাও নিয়তি।
  • আগুনে হাত দিলে হাত পুড়বে, পানিতে হাত দিলে ভিজবেই, এটা সিস্টেম।
  • মানুষকে শুধু এবাদতের জন্য দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছে। তাই এবাদই মুখ্য।
  • আমরা কেউ ধণীর ঘরে বা আবাৱ কেউ গরিব ঘরে জন্মেছি, এটা তাগদীর।
  • অনেকর মনে হয়ত প্রশ্ন আসতে পারে, আল্লাহ আমাকে কেন নবী হিসিবে সৃষ্টি করলেন না! বা আমাকে  কেন অমুক যুগে দুনিয়ায় পাঠালেন না! বা আমি যদি প্রথম মানব আদম হতাম বা.... এসব তাকদীরের ব্যাপার! তাকদির বিশ্বাস করতে হবে, মেনে নিতে হবে। এটাই ভাগ্য, ভাগ্যে থাকে, মানতে হয়।

এসবই হল-- ভাগ্য বা তাকদির তথা নিয়তি, যাকে বলা হয় ললাট তথা কপাল বা অদৃশ্যের লিখন। আশা করি বুঝেছেন হয়তো। কুরআন পড়ুন,জানুন,বুঝুন,মানুন।

Comments