নারীর মন | নারী মনস্তত্ত্বের রহস্যময় দিক। নারীর মনের রহস্য অনুসন্ধান


বি:দ্রঃ নারীর মনস্তত্ত্ব উক্ত লেখাটি আংশিক পড়ার পর নারীর প্রতি ভিন্ন মতামত ভিন্ন অভিজ্ঞতা আসলে তাহার জন্য লেখক কোন ভাবেই দায়ী নয়। এজন্য পুরো ব্লগটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন!

আপনি যেহেতু এই পোস্ট পর্যন্ত এসেছেন তাহলে বুঝতে হবে আপনি মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। হতে পারেন আপনি একজন নারী বা পুরুষ। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনার পুরুষ হবার সম্ভাবনাই বেশি; কারণ আপনি জানতে চেয়েছেন নারী কি? নারীর মন, নারীর রহস্য, নারীর মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো। এজন্যই বললাম যে আপনি পুরুষ হবার সম্ভাবনা বেশি কারণ নারীকে নারী যতটা চেনে যতটা খুজে বা যতটা বুঝতে চায় এর থেকে পুরুষ তাকে বেশি অনুসন্ধান করে; পুরুষ নারীর প্রতি আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করে নারী আসলে কি? নারীর মন কি? নারীর মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো কি? নারীর মনের রহস্য ই বা কি! নারী নিজেই তাকে নিয়ে যতটা কৌতুহলী এর থেকে বেশি কৌতুহলী পুরুষ নারীকে নিয়ে। পুরুষ চায় নারীকে, পুরুষ চায় নারীর মাঝে নিজের সুখকে খুঁজে নিতে, পুরুষ চায় নারীর মন জয় করতে এজন্যই নারীর প্রতি পুরুষের এত কৌতহল এত আগ্রহ। আগ্রহে সূত্র ধরেই আজকের আমাদের ব্লগপোস্ট। আমাদের আজকের ব্লগপোস্ট- নারীর মন নিয়ে। আজকে ব্লকে আলোচনা করা হবে নারী কি? নারীর মন; নারীর মনের রহস্য, নারীর মনের মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো। আপনারা জানেন নারী ছাড়া পৃথিবী সৌন্দর্যহীন তথা নারী ছাড়া পুরুষ নিজেও সৌন্দর্যহীন, নারী হচ্ছে পুরুষের অলংকার এই নারীর মনকে না বুঝলে শৃংখল হারাবে পুরুষর জাতি; তাই আগে জানতে হবে নারীর মন সম্পর্কে- নারী আসলে কি চায়? নারীর মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলোকে, নারীর মন নারীর রহস্য সম্পর্কে জানতে মনোযোগ সহকারে পড়ুন এই ব্লগ পোস্টটি।

সূচিপত্রঃ নারী মনস্তত্ত্বের রহস্যময় দিক। নারীর মনের রহস্য

নারীর মন | নারী মনস্তত্ত্বের রহস্যময় দিক HumanPhilo

নারীর মন | নারী মনস্তত্ত্বের রহস্যময় দিক। নারীর মনের রহস্য অনুসন্ধান

নারীর মনের রহস্য! নারী সম্পর্কে আসলে আমরা কতটুকু জানি? আর যতটুকু জানি; ততটুকু কি ভালোভাবে জানি তো?
প্রকৃতপক্ষে নারীর মনের রহস্য ব্যাপক, এই রহস্য না জানে ঠিক মতন পুরুষ না জানে নারী নিজে। আমার কাছে কেনো জানি মনে হয়, নারীর মনটা মাধ্যমিকের উচ্চতর গনিতের মত, একবার সূত্র বুঝে গেলে তাঁর জন্য অংক মেলানো খুব বেশি কঠিন নয়, তবে যদি না বুঝতে পারে? তাহলে খবরি আছে, কেনোনা জন্মের পর থেকে মৃত্যুর সময় কাল অব্দি একটা পুরুষকে নারীর ছায়ার নিচেই আশ্রয় নিতে হয়, তাইতো নারী মনের রহস্য কঠিন হলেও, এটা বোঝা আবশ্যক।

নারীর মন; নারী চায় পুরুষের সহমর্মিতা

বলা হয়ে থাকে নারীর মন নাকি পানির মত। আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে পানির মতোই বা কেন হবে নারীর মন? আসলে পানির কথা এজন্য বলা হয়েছে পানিকে আমরা যে পাত্রে রাখি পানি সে পাত্রটির সাদৃশ্য আকারে ধারণ করে। ঠিক একটা নারীকে আমরা যেভাবে চালাবো সেভাবেই চলবে। নারী পানির মতো স্বচ্ছ কিন্তু আপনি যদি চালাতে না জানেন তাহলে আপনার কারনে আমি নারী ঘোলা পানির মত হয়ে যাবে। কিন্তু আপনি চাইলে একজন নারীকে বিশুদ্ধ পানির মত করে তুলতে পারেন এবং সেই পানির মধ্যে আপনি আপনার চাহিদাকে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন এবং আপনি সুখী হবেন একজন নারীর মাধ্যমে। একটু আগে বললাম নারী হচ্ছে নরম প্রকৃতির আপনি যদি তাকে কড়া শাসনের মধ্যে রাখেন সে কঠোর হবে এবং আপনি নিজেও অসুখী হবেন যদি নারী সুখে না থাকে। কিন্তু আপনি চাইলেই তার সেই নরম মনটাকে আদর সোহাগ স্নেহ মমতা সাপোর্ট এবং সময় দিয়ে আগলে রাখতে পারবেন তাহলে একজন নারী আপনার কাছে সুখী হবে। সৃষ্টিকর্তা পুরুষদের কর্তা হিসাবে পাঠিয়েছেন। নারীত চায় পুরুষ তাকে হ্যান্ডেল করুক। সর্বোপরি আমি বলতে চাই নারীদের নরম ভাবে হ্যান্ডেল করা উচিত। কেউ যদি নারীর প্রতি সুন্দর করে কথা বলতে পারে আদর স্নেহ ভালোবাসা বা খুব বেশি সময় দিতে পারে সুন্দরভাবে আচরণ করে; সেই নারী এমনকি পুরুষের জন্য জীবন পর্যন্ত দিতেও রাজি।

নারীর মন; নারীর সৌন্দর্য কিসে? নারীর মন ও নারীর দেহ

নারীর সৌন্দর্য হচ্ছে তাঁর নারীত্বে। নারীর স্বভাব হচ্ছে মেয়েলিপনা, মূলত পুরুষ নারীর নারীত্বকে মেনে নিতে পারলেও, তাঁর মেয়েলিপনাকে মেনে নিতে পারে না। আর তখনি বোকা পুরুষ করে বসে নারীর প্রতি অবিচার। অথচ এই পুরুষই নারীর রূপের মূল্য দেয় বেশি, তবুও তাঁর মেয়েলিপনাকে সহজে মেনে নিতে পারে না। আর এখানেই পুরুষ করে জীবনের মস্তবড় ভুলটা। সে তাঁর দেহ আর মন দুটোকে এক করে ফেলে, কিন্তু একটু লক্ষ্য করলেই সবার বুঝতে পারার কথা একটা হচ্ছে দৃশ্যমান অন্যটা অদৃশ্যমান, এখন কথা হচ্ছে যে, কোনো শরীর আপনাকে স্পর্শ দিতে পারলেও, ভালোবাসাটা কিন্তু একমাত্র মনেরি কাজ?
নারীর দেহ এবং মন HumanPhilo

নারীর মন; পুরুষের ভুল ও নারীর মানিয়ে নেয়া

আর তাইতো পুরুষ এই দুটোর ভারসাম্য করতে না পেরে শুধুমাত্র শরীরটাকে পেতে গিয়ে, এঁটাকে করে ফেলে ভোগ্যবস্তু। আর এভাবেই নারী হয়ে যায় এঁটো স্বরূপ। তখন তাঁর কাছে বেঁচে থাকাটা অর্থহীন হয়ে পড়লেও শুধুমাত্র মাতৃত্বের আশা বুকে নিয়ে বাকী জীবন সমস্ত প্রতিকূলতাকে প্রত্যক্ষ করেও বেঁচে থাকে, তাকে বেঁচে থাকতে হয় সন্তান লালন পালনের আশায়। নারীর কোনো যুক্তি নেই আছে শুধু স্বভাব। তাঁর স্বভাবের যুক্তিটাকেই পুরুষ বোঝে না।

নারীর মন; নারীর মনের তৃপ্তি ও সার্থকতা কোথায়?

আর তাইতো নারী এত সুন্দর হয়েও বুঝতে পারে না তাঁর সৌন্দর্যের মাত্রা কতটুকু, সত্যি কথা বলতে নারীর নিজের সৌন্দর্য নিজে বোঝে না বিধায়ী তাকে চেয়ে থাকতে হয় পুরুষের দিকে, আর নারীর সৌন্দর্য সৃষ্টি করা হয়েছে পুরুষের জন্যই। পুরুষ তাকে সামান্য ভালোবেসে মূল্যায়ন করলে, সেটুকুই তাঁর তৃপ্তি ও সার্থকতা।

নারীর মন; নারী আত্নবিশ্বাসহীন তথা আত্মবিরোধী

তাইতো কোনো নারী রূপের দিক দিয়ে সমস্ত নারীদের অতিক্রম করলেও, তাঁর ভেতরে সন্দেহ থেকে যায়, আমি আসলেই সুন্দরী তো? আমাকে দেখে পুরুষ প্রশংসা করবে তো? আর তখন নারীকে তার রূপের মাধুর্য খুঁজে পেতে, হতে হয় পুরুষের দ্বারস্থ। আর এটাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ন, পুরুষের সৌন্দর্যই নারীর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর কারো কাছ থেকে রূপের প্রশংসা পেলে তখন বাড়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস, যেহেতু তার নিজের কাছে দেহের কোনো মূল্য নেই, সেহেতু যে ব্যাক্তি তাঁর শুধু মাত্র দেহটাকেই ভালোবাসে সেখানে তার ভালোবাসায় খুঁত খুজে পায় নারী, কেননা কোনো নারী শুধুমাত্র তার রূপের ভূয়সী প্রশংসা পেলেই যদি খুশি হয়ে যেতো, তাহলে রান্নার নিন্দা শুনলে সংসারে সংসারে এতশত অশান্তির সৃষ্টি হতো না।

নারীকে খুশি করার এক অদম্য কৌশল

এখন অনেকেই ভাবতে পারেন, তাহলে কি কোনো নারীর মন আর সমস্ত অঙ্গের প্রশংসা করলেই সে খুশি হয়ে যাবে? তাহলে উত্তর হবে পুরোপুরি না। আপনি একটা মেয়ের সমস্ত অঙ্গের প্রশংসা করলে তাঁর কাছে সেটা মিথ্যাও মনে হতে পারে, তাইতো কোনো নারীর যেই জায়গাটা আপাতদৃষ্টিতে খুঁত লক্ষ্য করবেন, সেখানেই প্রশংসা ঢেলে দিন, তাহলে সে নারী আপনার কথা আজীবন মনে রাখবে।

নারীর মন: নারীর কাছে কারা কাপুরুষ?

আর হ্যাঁ স্ত্রীকে যে পুরুষ প্রশংসা করতে কার্পণ্য করে, সে হচ্ছে কাপুরুষ অহংকারী লোক, সে বাহিরে যতই মহাপুরুষ হোক, তাঁর স্ত্রীর কাছে কাপুরষই।

নারী মন; নারী কেন আত্মবিরোধী? নারীর ভালবাসা!

নারী খুব আত্নবিশ্বাসহীন তাকে প্রশংসা করলে প্রথম প্রথম মেনে নিতে পারে না। তাইতো দেখবেন কোনো ছেলেকে প্রেমের নিমন্ত্রণ নিয়ে, নারীর পেছনে পেছনে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। আবার অনেক সময় মিথ্যে প্রশংসার ফাঁদে আটকা পড়ে। তবে সত্য প্রশংসার বিকল্প নেই। কোনো মেয়ের দাঁত একটু আঁকাবাঁকা যার জন্য সে নিজেও, অসন্তুষ্ট? তবে সেখানেই আপনার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তাকে প্রশংসা করুন, দেখবেন খুব বেশি খুশি হয়ে যাবে।
অনেক পুরুষের কাছে এসব আপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হতে পারে ঢং, আহ্লাদ, ছ্যাবলামি বৈকি কিছু না। অথচ এইযে নারীর এসব ন্যাকামি ঢং এগুলোই তাঁর মেয়েলিপনা, সে মূলত আপনাকে নানান সময় নানান ছ্যাবলামির বাহানায় জানতে চায়; আপনি তাকে ঠিক কতটুকু ভালোবাসেন, আর ঠিক এটাই তাঁর চাওয়া-পাওয়া।আর যখন আপনি এই জিনিস গুলো একজন সুদক্ষ বুদ্ধিমান লোকের মত নিপুণ ভাবে দিতে শিখবেন তখন সে আপনার জন্য বুকে ছুড়ি মারতেও দ্বিতীয় বার ভাববে না।
সুতরাং নারীকে প্রশয় দিন ভালোবাসুন, বাচ্চা শিশুদের যেভাবে সমস্ত ঢং মেনে নিয়ে বিরক্তিবোধ গোপন করেন, নারীর ক্ষেত্রে তাই করুন।

নারীর মন; পুরুষের প্রশয় বনাম নারীর স্বভাব (ধারণা)

এসব যখন করবেন তখন সেই নারী ভাবতেছেন একেবারে শান্ত হয়ে যাবে? মোটেও না, তবে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন, এবার নারী আরো বেশি বিদ্রোহী হয়ে উঠবে, নজরুলের মত গেয়ে উঠবে..
বল বীর-
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
নারীর জ্বালা যত সইবেন, এঁর মাত্রা আরো বেশি বাড়িয়ে দিবে, এবার সে জানতে চাইবে আমি কি রকম পুরুষকে বিয়ে করলাম, সে কাপুরুষ নয়তো?

নারীর মন; নারী চায় বীরপুরুষ; নারী ঘাড়ে উঠলে তাকে কিভাবে শাসন করতে হবে?

আর ঠিক তখনি আপনাকে বাসর ঘরের বিড়াল মারার মত আচরণ করতে হবে, বিড়ালটাকে মেরে বৌটাকে ভয় দেখাতে হবে, তাকে বুঝাতে হবে, তুমি যাকে বিয়ে করেছো সে একজন বীর পুরুষ 'টিপু সুলতান, তবে অনেকেই বৌকে প্রহার করে শরীরে হাত তুলে যেটা কুরূচিকর। যেটা এক ধরনের অপারগতা, কাপুরুষের লক্ষন। আপনি সূত্র শিখেন নাই ফলে অংক মিলবে না। আর এটা না বুঝে বৌয়ের উপর জোর- জবরদস্তি এটা একেবারেই বেমানান, গনিত বুঝতে হলে যেমন সূত্র বুঝতে হবে, ঠিক তেমনি নারীকে বুঝতে হলে তাঁর ফর্মুলার ভেতরে ঢুকে পড়তে হবে।

নারীর মন; নারীর অভিমান পিছনে কি লুকিয়ে থাকে? গোপন রহস্য সমাধান

নারী যখন গোস্যা করে তখন সে মূলত তাঁর রাগের মূল্য চায়, সে সেটার মূল্য আশা করে, আর তখন পুরুষকেই সেই অভিমানের মূল্য চুকাতে হয়, নয়তো বছরের পর বছর সংসারে কলহ থেকেই যাবে, নারীর অভিমান খুব খারাপ জিনিস এটা ভাঙানো খুব বেশি কঠিন কাজ নয়, হয়তো তার খোঁপায় একটি লাল গেন্দা ফুল, বেঁধে দিলেই মোমের মত গলে যাবে; হাতে একটি গোলাপ ফুল তুলে দিলেই তার অভিমানের ধ্বংস হবে, জাস্ট এইটুকু করলেই হয়তো বড় বড় বিপদ সংকেত কেটে যাবে..

নারীর মন; পার্থক্য- নারী মন বনাম পুরুষ মন

নারী দেহের শক্তি ভেতরে যেতে চায়, আর পুরুষের শক্তি বাহিরে বেড়িয়ে আসতে চায়, যার দরুন নারী দেহের অভিমান গুলো ভেতরে রয়ে যায়, সেটাকে তাপ প্রয়োগ করে স্বাভাবিক রাখতে হয়।

নারীর মন; নারী আসলে কি চায় আপনার থেকে?

আপনি যখন নারীকে পেতে চান, নারী তখন দূরে সরে যেতে চায় নারী অর্থকড়ির প্রসঙ্গ সামনে তুলে আনে, কোটি কোটি টাকার বায়না ধরে, গাড়ী বাড়ীর মালিক হতে চায়, আর তখনি পুরুষ ভাবে নারী বড্ড রহস্যময় লোভী, অথচ নারী এসব বায়না ধরে অবচেতন মনে, পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চায় সে মূলত এসবের কিছুই আশা করে না। আপনার কাছে আশাকরে শুধুমাত্র একটু অঙ্গীকার ও সহনশীলতা, আর সেটাকে বুঝাতেই নারী এতশত জটিলতার সৃষ্টি করে। :)
নারী যৌনতা চায়, তবে এরচেয়ে বেশি আশা করে তার মূল্য বা মর্যাদা। নারী যখন স্ত্রী হয়ে চায় তখন তার আকর্ষন ধীরে ধীরে কমতে থাকে, অথচ পুরুষ প্রেমিকার কাছে যা আশা করে, ঘরের বৌয়ের কাছে তাই চায়, তবে সমস্যা হলো পুরুষ প্রেমিকার ঢং আহ্লাদ সহ্য করতে পারলেও, বিয়ের পর নারী তাঁর চৌমকত্ব হারায়, আর তখনি উঠে আসে প্রশ্ন, আচ্ছা ওঁ এতটা পাল্টে গেলো কিভাবে? বোকা পুরুষ মরিচীকা প্রেমিকার পেছনে, সমস্ত আদর ভালোবাসা খুয়িয়ে ফেলে..

নারীর মন; একজন নারী কৃপণ বা হিসাবী হওয়ার পিছনে কারণ কি? নারীর কৃপণতার রহস্যের অনুসন্ধান!

তবে নারী সমস্ত কিছু সঞ্চয় করে রাখে, স্বামীকে নিয়ে মার্কেটে গেলে সামান্য জিনিস নিয়েও দেখবেন স্ত্রী অনেক বেশি দর কষাকষি করে, এসব কারণ কখনো ভেবে দেখেছেন, এতবেশি কৃপণতার কারণ কি? নারীর এই কৃপণতা কিন্তু কৃপণতা নয়, এটা তার মূল্য! 

নারীর মন; নারী কেন সঞ্চয় করতে পছন্দ করে? নারীর মন ও টাকা

সে ভাবে দুনিয়ার সমস্ত কিছুর উপরে তার মূল্য, বাকী সব কিছু স্বস্তা ও অর্থহীন তার রূপ ও গুনের কাছে। অথচ তার নিজের নেই কোনো আত্নবিশ্বাস, এই কারণেই সে মূল্য সঞ্চয় করতে উদ্যত হয়, সঞ্চয়ী হয়ে উঠে। সে খরচ করতে চায় না। সে শুধু জমাতে চায়, এজন্য খেয়াল করলে দেখবেন, নারী জন্মের পর থেকেই জমাতে ব্যাস্ত, তার বাচ্চা কালের সমস্ত স্মৃতি বুড়ো বয়সেও জাদুর বাক্সে থেকেই যায়। এই কারনেই হয়তো নারীকে সঞ্চয় অর্থ তুলে দেওয়া হয় বিয়ের দিন, তাঁর দেনমোহর ধার্য করা হয়, নারীর ভালোবাসার মূল্য পরিশোধ করতে হয়, আর এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার।

নারীর মন; নারী পৃথিবীর সৌন্দর্য

নারীর স্বভাব চিরকাল একি রকম থাকে, আর সে যদি রোবটের মত আচরণ না করতো, তাহলে হয়তো পৃথিবীতে সংসার নামক শব্দটার জন্মই হতোনা। 
তবে নারীর এই স্বভাব রোবটিক হলেও তার ভেতরে মধু আছে, অনেকটা রসায়ন বইয়ের রসের মতো, তা সহজে পাওয়া যায় না ভালোবাসা আর ধৈর্য্য দিয়ে অর্জন করে নিতে হয়, প্রতিটা পুরুষের ভেতরে অর্ধেক নারী অর্ধেক পুরুষ লুকায়িত আছে, আর সেটাকে স্বয়ং সম্পূর্ণ করতে হলে নারীকে যেমন পুরুষের বাহিরের রাগ টাকে স্বীকার করতে হবে, ঠিক সেভাবে পুরুষকে নারীর ভেতরে মেয়েলিপনাকে মেনে নিতেই হবে। নয়তো পুরুষ নারী উভয়ের ভিতরেই শূন্যতা থেকে যাবে, তাইতো নজরুল বলেছেন,
"নর দিলো ক্ষুধা, নারী দিলো সুধা.."
আর এই দুইয়ের ভিতরে আছে সমান গুরুত্ব পুরুষের ক্ষুধা ব্যাতীত নারীর সুধার কোনো মূল্য নেই, আবার নারীর সুধা ছাড়া পুরুষের কোনো গতি নেই, দুটোই সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়তো প্রকৃতি তাঁর ভারসাম্য হরাবে। নারী রহস্যময়ী ঠিক, তবে ছলনাময়ী নয়, নারীর ভেতরে যেটুকু ছলনা লক্ষ্য করা যায়, আদতে তা তাঁর স্বভাব ধর্ম।

নারীর মন; নারীর যদি মেয়েলিপনা না থাকতো তাহলে কি হতো জগত সংসারের?

তবে নারী যখন সীমালঙ্গন করে তখন তা হিংসা, দম্ভ, আত্নজাহিরি, সংকীর্ণতা, পারনিন্দা, অসহিষ্ণু, ইত্যাদি পাপ বেড়ে গেলে, প্রকৃতির বৈধ স্বভাব রূপান্তরিত হয়, নিকৃষ্ট আচারণে প্রকৃতি হারায় তাঁর স্বাভাবিকতা। নারীরা যদি না থিকতো তাহলে পৃথিবী যেন হারাতো তার সৌন্দর্যের শৃঙ্খল। নারী না হাসলে পৃথিবীর সব পুরুষ হয়ে যেত পাগল। নারীর ছত্র ছায়া পুরুষ অসম্পূর্ণ।



আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কি?
নারীর মন সত্যিই কি রহস্যময়, নাকি আমাদের বোধের সীমাবদ্ধতা তা রহস্য করে তোলে? আপনার ভাবনা আমাদের জানান কমেন্টে।

একটি প্রশ্ন রেখে যাচ্ছি...
আল্লাহ নারী ও পুরুষকে ভিন্ন স্বভাব ও মানসিকতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন- এই পার্থক্যের সৌন্দর্য আপনি কতটা বুঝতে পেরেছেন?

চিন্তার গহীনে প্রবেশ করো...

নারী মন নিয়ে আরও জানতে আগ্রহী? আমাদের “মানবচিন্তা” সিরিজে নারীর মানসিকতা, আবেগ, আত্মবোধ এবং সম্পর্ক নিয়ে আরও লেখাগুলো পড়ে ফেলুন।

মনস্তত্ত্ব বিষয়ক আরও পড়ুন

Comments